
কৃষ্ণনগর, ২৬ মে (হি.স.): আজ কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৮তম জন্মদিবস রাজ্য জুড়েই যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে। এরই অঙ্গ হিসেবে নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরের ঐতিহাসিক ‘গ্রেস কটেজে’ মঙ্গলবার যথাযোগ্য শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হলো কবির জন্মদিন। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই গ্রেস কটেজটিকে হেরিটেজ বিল্ডিং হিসেবে সংরক্ষণ করেছে।
এদিনের অনুষ্ঠানের শুরুতে কবির প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়। এরপর তাঁর রচিত গান সহযোগে একটি পথ পরিক্রমার (মিছিল) মাধ্যমেই অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে। ‘সুজন পাঠাগার’ ও ‘নজরুল গবেষণা কেন্দ্র’-এর যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য ও আলোচনা সভায় অংশ নেন ইনাসউদ্দিন, দীপঙ্কর দাস, প্রদীপ বাগচী, শঙ্খশুভ্র সরকার, শ্যামাপ্রসাদ ঘোষ এবং পীতম ভট্টাচার্য প্রমুখ বিশিষ্ট বক্তারা। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে একক ও সমবেত সঙ্গীত এবং আবৃত্তি পরিবেশন করা হয়।
প্রসঙ্গত, এই গ্রেস কটেজে ১৯২৬ সালে কবি সপরিবারে এসে থাকতে শুরু করেছিলেন এবং ১৯২৬ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত (স্মৃতি রক্ষার্থে) এটি কবির নাম বিজড়িত থাকে। এখানেই কবির অকালপ্রয়াত পুত্র বুলবুলের জন্ম হয়েছিল। নজরুলের বিখ্যাত উপন্যাস মৃত্যুক্ষুধা-ও এই বাড়িতে বসেই রচিত হয়। কবির জীবনের অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য প্রায় আড়াই বছর এই স্মৃতিবিজড়িত ঘরে অতিবাহিত হয়েছিল। স্বভাবতই, এমন এক স্মৃতিমেদুর পরিবেশে কবির জন্মদিবস পালন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত