
গুয়াহাটি, ২৬ মে (হি.স.) : অসম হিন্দু সভ্যতার সহ-স্রষ্টা, ভারতবর্ষ মানুষকে আধ্যাত্মিক স্বাধীনতা দিয়েছে। ‘ঔপনিবেশিক আখ্যানের অবলুপ্তি : হিন্দু সভ্যতায় অসমের স্থান প্রতিষ্ঠা’ শীর্ষক বক্তৃতানুষ্ঠানে বলেছেন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ দিগন্তবিশ্ব শর্মা।
আজ মঙ্গলবার বিকালে গুয়াহাটির ভরলুমুখে অবস্থিত আলোক ভবন-এর সংঘসাধক মধুকর লিমায়ে প্রেক্ষাগৃহে পূর্বোত্তর ভারত অধ্যয়নসমূহের উদ্যোগে এক বিশেষ বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঔপনিবেশিক মানসিকতা এবং বিকৃত ইতিহাসের আবর্ত থেকে মুক্ত হয়ে হিন্দু সভ্যতার বিশাল পরিসরে অসমের অনন্য ও অবিচ্ছেদ্য স্থানকে পুনরাবিষ্কার করার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস ছিল এই অনুষ্ঠান।
‘ঔপনিবেশিক আখ্যানের অবলুপ্তি : হিন্দু সভ্যতায় অসমের স্থান প্রতিষ্ঠা’ শীর্ষক বিষয়কে কেন্দ্র করে আয়োজিত বক্তৃতানুষ্ঠানে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, অনুবাদক, সাহিত্য অকাদেমি অনুবাদ পুরস্কারপ্রাপ্ত, ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়, গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইআইটি গুয়াহাটির সংযুক্ত অধ্যাপক এবং অনুশীলন অধ্যাপক তথা বাগ্মী দিগন্তবিশ্ব শর্মা প্রধান বক্তা হিসেবে তাঁর বক্তব্য পেশ করেছেন।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের উত্তর অসম প্রান্তের প্রচারপ্রমুখ কিশোর শিবম কর্তৃক সঞ্চালিত এই অনুষ্ঠানে দিগন্তবিশ্ব শর্মা তাঁর বক্তব্যে ঔপনিবেশিক নানা আখ্যানকে যুক্তি সহ খণ্ডন করেন। বিশেষভাবে তিনি ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের ভ্রান্ত ধারণা, ‘’ভারতীয় সংস্কৃতি বলে কোনও একক সাংস্কৃতিক ধারা নেই’, ‘ভারতের নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল না’, ‘ভারত সর্বদা পরাজিত রাষ্ট্র’ ইত্যাদি নানা ধরনের পরিকল্পিত পাশ্চাত্যপ্রসূত আখ্যানকে সাবলীলভাবে খণ্ডন করে উপস্থিত শ্রোতাদের দিকনির্দেশনা দেন।
বক্তা বলেন, ‘অসম হিন্দু সভ্যতার সহ-স্রষ্টা এবং হিন্দু সভ্যতায় অসমের স্থান নিরূপণ করা অপ্রয়োজনীয়। অসম নিজেই এই সভ্যতার প্রতিষ্ঠাতা।’ তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি মত প্রকাশ করে বলেন, ভারতবর্ষ মানুষকে আধ্যাত্মিক স্বাধীনতা প্রদান করেছে। বেদ কখনও কেবল বৌদ্ধিক জ্ঞানের মাধ্যমে বোঝা যায় না, মনস্তত্ত্বের মাধ্যমেই একে হৃদয়ঙ্গম করা সম্ভব। তাঁর মতে, ভারতীয় সভ্যতা-সংস্কৃতির অন্যতম ভিত্তি হলো বেদ। বেদ কেবল শক্তিপূজা বা প্রকৃতিপূজার মাধ্যম নয়, বলেন তিনি।
হিন্দু সভ্যতায় অসমের স্থান নির্ধারণ প্রসঙ্গে বক্তা দিগন্তবিশ্ব বলেন, অসমের ইতিহাসের প্রত্যেক বৈষ্ণবপণ্ডিত ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা এবং তাঁদের নিজস্ব রচনায় ৪৩-বার পবিত্র ভারতভূমির উল্লেখ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভারতীয় হওয়া কেবল নাগরিকত্ব নয়, ভারতভূমির সাধক হওয়াটাই মূল তত্ত্ব।
শতাধিক শ্রোতার উপস্থিতিতে গাম্ভীর্যপূর্ণ এই অনুষ্ঠানের শেষে অধ্যয়নসমূহের সদস্য চিন্ময় কিশোর ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও শান্তিমন্ত্র পাঠ করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস