
দুর্গাপুর, ২৫ মে (হি.স.) : অন্ধকার নামলেই অবাধে চলছে ওভারলোডিং পাথরবোঝাই লরি ও ডাম্পার। আর সেই অতিরিক্ত চাপেই উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যেই বসতে শুরু করেছে অজয় নদের উপর নির্মিত নতুন সেতুর সংযোগকারী রাস্তা। পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার শিবপুরে অজয় সেতুর কাছে এই ছবি সামনে আসতেই ১৩৮ কোটি টাকার প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
কাঁকসার শিবপুরের অজয় নদ পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর ও কাঁকসা জঙ্গলমহলের সঙ্গে বীরভূমের জয়দেব-কেঁদুলিকে যুক্ত করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই দুই জেলার মানুষের দাবি ছিল স্থায়ী সেতুর। কারণ প্রতি বছর বর্ষার জলে ভেসে যেত অস্থায়ী রাস্তা। সিমেন্টের পাইপ, পাথর, মোরাম ও মাটি ফেলে তৈরি সেই অস্থায়ী পথ দিয়েই চলত বাস, লরি, সাইকেল, রিকশা-সহ নিত্যযাত্রীদের যাতায়াত।
জয়দেব-কেঁদুলির ঐতিহাসিক মকর সংক্রান্তি মেলা উপলক্ষে প্রতিবছরই বহু পুণ্যার্থী আসেন। পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসূত্রে বীরভূম থেকে দুর্গাপুর ও কাঁকসায় প্রতিদিন যাতায়াত করেন অসংখ্য মানুষ। যদিও পান্ডবেশ্বর ও ইলামবাজারে আরও দুটি সেতু রয়েছে, তবুও শিবপুরের রাস্তা ব্যবহার করলে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার পথ কম পড়ে।
সেই প্রয়োজন থেকেই অজয় নদের উপর নির্মিত হয় নতুন সেতু। প্রায় ২.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছে ১৩৮ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা। সেতুর দু’পাশে ফুটপাত, ম্যাস্টিক রোড, পথবাতি এবং নীল-সাদা রঙে সৌন্দর্যায়নের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। প্রায় এক বছর আগে বীরভূমের ইলামবাজারে প্রশাসনিক সভা থেকে ভার্চুয়ালি এই সেতুর উদ্বোধন করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কিন্তু উদ্বোধনের বছর ঘুরতেই সেতুর সংযোগকারী রাস্তার একাধিক জায়গায় ধস নামতে শুরু করেছে। কোথাও রাস্তা উঁচু-নিচু হয়ে ঢেউ খেলানো আকার নিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত নামলেই ১২, ১৬ ও ১৮ চাকার ডাম্পারে ৫০ থেকে ৭০ টন পাথর বোঝাই করে অবাধে যাতায়াত চলছে। নির্ধারিত বহনক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি ওজন নিয়ে চলাচল করায় রাস্তায় অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। বিশেষ করে হঠাৎ ব্রেক কষার ফলে রাস্তার উপরের স্তর বসে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে প্রকল্পের কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। মঙ্গলবার বিজেপির বর্ধমান-দুর্গাপুর সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি রমন শর্মা বলেন, “তৃণমূল আমলে হওয়া অধিকাংশ কাজই নিম্নমানের। কাটমানির রাজনীতির ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তার উপর ওভারলোডিং পাথরবোঝাই ডাম্পারের অবাধ যাতায়াতের কারণে রাস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের কড়া নজরদারি প্রয়োজন।”
যদিও আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ট্রাফিক বিভাগের এসিপি রাজকুমার মালাকার জানান, “রাস্তায় নিয়মিত চেকিং হয়। নির্দিষ্ট কোনও রুটে ওভারলোডিংয়ের অভিযোগ পেলে অবশ্যই অভিযান চালানো হবে।”
অন্যদিকে, বীরভূমের দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা নির্মাণকারী সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “জয়দেব সেতুর বিভিন্ন অংশ বসে যাচ্ছে। রাস্তার অবস্থা দেখলেই বোঝা যায় নিম্নমানের কাজ হয়েছে। বিষয়টি জেলাশাসককে জানানো হচ্ছে। কেন নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হল, তা সরকারি ভাবে তদন্ত হওয়া উচিত।”
তবে পূর্ত দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, নির্মাণকারী সংস্থার পাঁচ বছরের ‘সিকিউরিটি পিরিয়ড’ রয়েছে। সেই সময়ের মধ্যে রাস্তার কোনও ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থাকেই মেরামতির দায়িত্ব নিতে হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা