
আগরতলা, ৩ মে (হি.স.) : টানা তিন দিন ধরে চলা তল্লাশি অভিযানের পর অবশেষে রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ ঈশান চন্দ্রনগর স্কুল সংলগ্ন নদী থেকে উদ্ধার করা হল রাকেশ শীলের মরদেহ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
জানা গেছে, গত শুক্রবার ওই এলাকাতেই নদীতে ডুবে নিখোঁজ হন রাকেশ শীল। ঘটনার পর থেকেই তৎপর হয়ে ওঠে উদ্ধারকারী দল। এনডিআরএফ, গোকুলনগর সিটিআই-এর দ্বিতীয় ব্যাটালিয়ন এবং টিএসআর-এর বিশেষ ডুবুরি দল যৌথভাবে দিন-রাত এক করে তল্লাশি চালায়। প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রাখা হয়, যার ফলস্বরূপ রবিবার সকালে তাঁর মৃতদেহের সন্ধান মেলে।
মৃতদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আমতলি থানার পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ শনাক্ত করেন। প্রিয়জনকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়েন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকাহত হয়ে পড়েন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই মৃতদেহটি উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি হাঁপানিয়ায় টিএমসিতে পাঠানো হয়। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোনও রকম অসঙ্গতি থাকলে তা খুঁজে বের করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে পুলিশের তরফে।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীসংলগ্ন এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সতর্কতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ