
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ৪ মে (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরার গুরুত্বপূর্ণ ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে জয় তুলে নিয়ে আবারও নিজেদের শক্ত ঘাঁটি প্রমাণ করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলের প্রার্থী জহর চক্রবর্তী বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২৪,২৯১ ভোট, যা এই আসনে বিজেপির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ।
সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, কংগ্রেস প্রার্থী চয়ন ভট্টাচার্য পেয়েছেন ৫,৯৩৬ ভোট এবং সিপিআই(এম) প্রার্থী অমিতাভ দত্ত পেয়েছেন ৬০০১ ভোট। এছাড়াও, আমরা বাঙালির বিবাস রঞ্জন দাস পেয়েছেন ২৭৪ ভোট, এসইউসিআই-এর সঞ্জয় চৌধুরী পেয়েছেন ২২৬ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্রজলাল দেবনাথ পেয়েছেন ১২৬ ভোট। ‘নোটা’-তে পড়েছে মোট ৪৪৪টি ভোট।
এই জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “ধর্মনগরের জনগণের কাছে আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের এই বিপুল সমর্থন আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা উন্নয়ন, শান্তি ও অগ্রগতির লক্ষ্যে কাজ করে যাব।”
বিজেপি-র অন্যান্য মন্ত্রী, বিধায়ক ও দলীয় নেতৃত্বও এই জয়কে ‘উন্নয়নের প্রতি মানুষের আস্থা’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। গণনা কেন্দ্রের বাইরে শুরু হয় মিছিল, স্লোগান এবং মিষ্টি বিতরণ—যার ফলে গোটা ধর্মনগর কার্যত উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রয়াত বিধায়ক ও তৎকালীন বিধানসভার স্পিকার বিশ্ববন্ধু সেনের মৃত্যুতে এই আসনটি শূন্য হয়ে পড়ে। সেই কারণেই উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়। গত ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণে ৮০.০৪ শতাংশ ভোট পড়ে।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে পিএম শ্রী ধর্মনগর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ভোট গণনা সম্পন্ন হয় সোমবার। ডিআইজি রতি রঞ্জন দেবনাথ, এসপি অবিনাশ রাই এবং এসডিপিও জয়ন্ত কর্মকারের তত্ত্বাবধানে তিনস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয় এবং মোবাইল টহল, ব্যারিকেড ও নির্দিষ্ট চৌকি স্থাপন করা হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ