লোধা সম্প্রদায়ের উন্নয়নে একাধিক দাবি, জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি পিভিটিজি লোধা সমাজের
ঝাড়গ্রাম, ১০ জুন (হি.স.) : বিশেষভাবে পিছিয়ে পড়া আদিম জনগোষ্ঠী (পিভিটিজি) লোধা সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়ন এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে সরব হয়েছে ঝাড়গ্রাম পিভিটিজি লোধা সমাজ। সম্প্রতি সংগঠনের পক্ষ থেকে ঝাড়গ্রামের জেলাশাসকের কাছে এক
লোধা সম্প্রদায়ের উন্নয়নে একাধিক দাবি, জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি পিভিটিজি লোধা সমাজের


ঝাড়গ্রাম, ১০ জুন (হি.স.) : বিশেষভাবে পিছিয়ে পড়া আদিম জনগোষ্ঠী (পিভিটিজি) লোধা সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়ন এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে সরব হয়েছে ঝাড়গ্রাম পিভিটিজি লোধা সমাজ। সম্প্রতি সংগঠনের পক্ষ থেকে ঝাড়গ্রামের জেলাশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে লোধা সম্প্রদায়ের বহু মানুষ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সেই কারণে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে প্রশাসনের কাছে।

স্মারকলিপিতে ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বন্ধ হয়ে যাওয়া পিভিটিজি লোধা ডেভেলপমেন্ট সেল অবিলম্বে পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের মতে, এই সেল লোধা সম্প্রদায়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং সরকারি পরিষেবার সঙ্গে সংযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। সেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বহু উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ব্যাহত হয়েছে।

এছাড়া দুই জেলার শিক্ষিত বেকার লোধা যুবক-যুবতীদের জন্য সরকারি উদ্যোগে স্থায়ী ও নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার দাবিও তোলা হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও বহু তরুণ-তরুণী উপযুক্ত কর্মসংস্থানের অভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন।

সমস্ত সরকারি চাকরিতে পিভিটিজি তালিকাভুক্ত লোধা সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক সংরক্ষণের দাবিও জানানো হয়েছে। সংগঠনের দাবি, দীর্ঘদিনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পিছিয়ে পড়ার কারণে প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে লোধা সম্প্রদায়ের মানুষের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ সংরক্ষণ চালু হলে তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।

বুধবার ঝাড়গ্রাম পিভিটিজি লোধা সমাজের সম্পাদক প্রেমচাঁদ শবর বলেন, “আমরা সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা অংশের মানুষ। আমাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষিত হলেও চাকরির সুযোগ পাচ্ছে না। ডেভেলপমেন্ট সেল না থাকায় বহু সরকারি প্রকল্প ও সুযোগ-সুবিধা থেকেও আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। তাই প্রশাসনের কাছে আমাদের আবেদন, লোধা সম্প্রদায়ের উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।”

সংগঠনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, জেলা প্রশাসন দাবিগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এবং লোধা সম্প্রদায়ের উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তাদের মতে, দাবিগুলি বাস্তবায়িত হলে ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বহু লোধা পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande