চুড়াইবাড়িতে দুই ভাইয়ের পরিবারের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৬
চুড়াইবাড়ি (ত্রিপুরা), ১০ জুন (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরা জেলার চুড়াইবাড়ি থানাধীন দক্ষিণ বাঘন গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ঘটে যাওয়া এই ঘটনায়
আহতদের নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে


চুড়াইবাড়ি (ত্রিপুরা), ১০ জুন (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরা জেলার চুড়াইবাড়ি থানাধীন দক্ষিণ বাঘন গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় উভয় পক্ষের মোট ছয়জন আহত হন। আহতদের কদমতলা সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হলে তাঁদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

জানা গেছে, আহতদের মধ্যে ছোট ভাই জালাল উদ্দিন (৪৫), তাঁর স্ত্রী রায়না বেগম (৪৪) এবং ছেলে ছালেক উদ্দিন (২৮) গুরুতরভাবে জখম হন। অন্যদিকে বড় ভাই নুর উদ্দিন (৬২), তাঁর ছেলে জাকির হোসেন (৩৫) এবং পুত্রবধূ রেশমা বেগমও সংঘর্ষে আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার দুই পরিবারের মধ্যে সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পারিবারিক অশান্তি থেকে শুরু হওয়া সেই বচসা অল্প সময়ের মধ্যেই উত্তপ্ত রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের সদস্যরা একে অপরের উপর হামলা চালায়। সংঘর্ষে লাঠি, ইট ও অন্যান্য বস্তু ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আহত ছালেক উদ্দিন অভিযোগ করে জানান, তাঁর মা-বাবা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বড় চাচা নুর উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের উপর অতর্কিত হামলা চালান। বাবা-মায়ের চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাঁকেও শাবল ও ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং চিকিৎসকরা কয়েকটি সেলাই দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁর বাবা জালাল উদ্দিনও মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে নুর উদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে যে, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের উপরই প্রথমে হামলা চালানো হয়েছিল। ফলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ও প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বাসিন্দারা কদমতলা সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর আহত তিনজনকে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়।

এদিকে ঘটনার জেরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উভয় পক্ষই চুড়াইবাড়ি থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সংঘর্ষের নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী এবং কারা প্রথমে হামলা চালিয়েছিল, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পারিবারিক বিরোধের জেরে এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা এলাকায় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন পুলিশের তদন্তে প্রকৃত সত্য সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande