অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের খিচুড়ি খেয়ে অসুস্থ ২৬ মা ও শিশু, খাদ্যে বিষক্রিয়ার প্রমাণ মেলেনি
ঝাড়গ্রাম, ১১ জুন (হি.স.) : অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পরিবেশিত খিচুড়ি খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন ২৬ জন মা ও শিশু। বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর ১ নম্বর ব্লকের আখড়াগোড়া এলাকার একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। শারীরিক
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের খিচুড়ি খেয়ে অসুস্থ ২৬ মা ও শিশু, খাদ্যে বিষক্রিয়ার প্রমাণ মেলেনি


ঝাড়গ্রাম, ১১ জুন (হি.স.) : অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পরিবেশিত খিচুড়ি খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন ২৬ জন মা ও শিশু। বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর ১ নম্বর ব্লকের আখড়াগোড়া এলাকার একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। শারীরিক অস্বস্তির অভিযোগে তাঁদের লালগড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। তবে চিকিৎসকদের দাবি, কারও শরীরে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কোনও লক্ষণ মেলেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী বাসন্তী রায় এবং সহায়িকা স্বপ্না রায়ের তত্ত্বাবধানে এদিন খিচুড়ি রান্না ও পরিবেশন করা হয়। অনেক উপভোক্তা কেন্দ্রে বসে খাবার খান, আবার কেউ কেউ বাড়ির জন্য খাবার নিয়ে যান।

অভিযোগ, এক শিশু ও তার মায়ের জন্য বাড়িতে নিয়ে যাওয়া খিচুড়ির মধ্যে একটি টিকটিকি দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই উপভোক্তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই শারীরিক অস্বস্তির অভিযোগ করতে শুরু করেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন লালগড়ের বিডিও, লালগড় থানার আইসি-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে খিচুড়ি খাওয়া ২৬ জন মা ও শিশুকে লালগড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে খবর, সকলকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কোনও উপসর্গ ধরা পড়েনি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক চিকিৎসক জানান, ভর্তি হওয়া কারও মধ্যেই অস্বাভাবিক কিছু দেখা যায়নি। তবুও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে খিচুড়ির নমুনাও পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন ঝাড়গ্রাম বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ। ঘটনাচক্রে সেদিন তিনি লালগড় ব্লক অফিসে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন মা ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন।

বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ বলেন, “মোট ২৬ জনকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আনা হয়েছে। বর্তমানে সবাই স্থিতিশীল আছেন। আমি তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। পরে বিডিও, জয়েন্ট বিডিও, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক, পূর্ত দফতর-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেছি। সেখানে রান্নার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের খাবারের গুণমান ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রান্না করা খাবার সব সময় ঢেকে রাখার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।”

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande