
ধানবাদ, ১১ জুন (হি.স.): বর্ষাকালে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) ১০ জুন থেকে দেশজুড়ে নদী থেকে বালি উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে সেই নিষেধাজ্ঞার পরও ধানবাদে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের কারবার অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে খনি দফতরের দল নিরাপত্তা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে বৈধ অনুমতিপত্র ছাড়া বালি বোঝাই দুটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
মাইনিং ইন্সপেক্টর শ্যামানন্দ সিং এবং ব্রহ্মদেব যাদবের নেতৃত্বে খনি দফতরের দল সকালেই পরিদর্শনে নামেন। প্রথমে বরটাঁড় বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ধাইয়া রোডে বালি বোঝাই দুটি ৪০৭ গাড়ির নথি পরীক্ষা করা হয়। তদন্তে গাড়ির চালকেরা বালি পরিবহণ সংক্রান্ত কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেননি। এরপর জেএইচ-১০ এটিটি-৮৭৫৪ এবং জেএইচ-১০ বিজে-৭৪৪৯ নম্বরের গাড়ি দু’টি বাজেয়াপ্ত করে ধানবাদ থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়। গাড়ি দু’টি থেকে প্রায় ৪০০ ফুট বালি উদ্ধার হয়েছে।
এরপর খনি দফতরের দল তেলমাচ্চো বালিঘাটে পৌঁছলে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দামোদর নদী থেকে ট্র্যাক্টরের মাধ্যমে বালি তোলা ও বোঝাই চলছে। তবে অভিযানকারীদের আসতে দেখে অবৈধ কারবারিরা ট্র্যাক্টরের চাবি নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে অবৈধ খননের প্রমাণ সংগ্রহ করে পরবর্তী পদক্ষেপ শুরু করেছে খনি দফতর।
এনজিটির নিষেধাজ্ঞার পরও দিনের আলোয় প্রকাশ্যে অবৈধ বালি উত্তোলন চলতে থাকায় একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নদীঘাটে খোলাখুলি বালি তোলার ঘটনায় অবৈধ কারবারিদের বাড়তি দাপটই স্পষ্ট হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, কার মদতে এই অবৈধ ব্যবসা চলছে এবং সংশ্লিষ্ট দফতর কবে কার্যকরভাবে এই কারবারে রাশ টানতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও খনি দফতরের দাবি, অবৈধ খননের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরও যেভাবে বালি উত্তোলন চলছে, তা প্রশাসনিক নজরদারি এবং আইন প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সুনন্দা দাস