
কোঝিকোড়, ১১ জুন (হি. স ) : কেরলমের কোঝিকোড় জেলার ফেরোক এলাকার ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। তাঁকে কোঝিকোড় সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ-অনুসন্ধান শুরু করেছে।
বুধবার মধ্যরাতে কোঝিকোড় মেডিক্যাল কলেজের পরীক্ষাগারে সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার পরেই রোগীকে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে সরানো হয়। তাঁর নমুনা আরও বিশ্লেষণের জন্য পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতেও পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগী এখন ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। সংক্রমণের উৎস খুঁজে বের করতে এবং সম্প্রতি তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তীব্র জ্বর নিয়ে ওই ব্যক্তি একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে আরও পরীক্ষা চালানো হয়, যাতে নিপা সংক্রমণ ধরা পড়ে। জানা গেছে, তিনি একটি ডি-অ্যাডিকশন সেন্টারেও গিয়েছিলেন। সেই সূত্রে সম্ভাব্য সংক্রমণের পথ খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য এবং রোগীর সংস্পর্শে আসা অন্যদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। বৃহস্পতিবার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও নজরদারি শুরু হবে।
হাসপাতালে ইতিমধ্যে কড়া বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। আক্রান্ত ওয়ার্ডের চারপাশে বিশেষ ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে, এসডিএস ব্লকে প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে এবং আশপাশের এলাকায় গাড়ি পার্কিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রোগী ও দর্শনার্থীদের মূল গেট দিয়ে যাতায়াত করতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে মুরলীধরন পরিস্থিতি পর্যালোচনায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন।
নিপা একটি জুনোটিক ভাইরাস, যা বাদুড় বা শূকরের মতো প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমি এবং গুরুতর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের প্রদাহ পর্যন্ত হতে পারে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য