
ক্যানিং, ১১ জুন (হি. স.): পূর্ব ঘোষণা মতই তালদি স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালাল রেল। বুধবার রাতে কার্যত বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ক্যানিং লাইনের তালদি স্টেশান চত্বর ও সংলগ্ন বাজার এলাকা। প্রায় দেড়শ দোকানপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে বহু হকার, ব্যবসায়ী তাঁরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। কাজ হারিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই এই তালদি স্টেশান চত্বর ও সংলগ্ন বাজারে রেলের জায়গা দখল করে স্থানীয় ব্যবসায়ী, হকাররা নিজেদের ব্যবসা করছিলেন। এই জবর দখলের ফলে নিত্যযাত্রীদের চরম অসুবিধায় পড়তে হচ্ছিল। প্রতিদিন ট্রেন ধরতে বা ট্রেন থেকে নেমে বাড়ি ফিরতে গিয়ে যানজটের সম্মুখীন হতে হচ্ছিল নিত্যযাত্রীদের। দীর্ঘদিন ধরে এই উচ্ছেদের পরিকল্পনা রেল করলেও বিগত রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে সেই উচ্ছেদ কার্যত স্থগিত ছিল। কিন্তু রাজ্যে পালা বদলের সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের রেলস্টেশন হকারদের হাত থেকে দখল মুক্ত করতে উদ্যোগ নেয় রেল। সেই মোতাবেক এই তালদি স্টেশন ও সংলগ্ন বাজার এলাকায় বুধবার রাত থেকে উচ্ছেদ অভিযানে নামে রেল। রাতভর অভিযান চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একের পর এক দোকান।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, রেলের তরফ থেকে কোনও আলোচনা ছাড়াই এই উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতগুলো মানুষ আজ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় ব্যবসায়ী রাম দেবনাথ বলেন, “ দুশোর বেশি মানুষ আজ বেকার হয়ে পড়লেন। এঁদের পরিবারগুলো কিভাবে চলবে এবার! আলোচনার মাধ্যমে পুনর্বাসন কিম্বা অন্য কোনও ব্যবস্থা তো করা যেত এই মানুষগুলোর জন্য। এই বাজারের উপর আশপাশের অন্তত পঞ্চাশ হাজার মানুষ নির্ভরশীল। তাঁরাও ক্ষতিগ্রস্থ হলেন।” স্থানীয় ব্যবসায়ী নিতাই কামার, সন্তোষ ঘোষরা বলেন, “ বহু বছর ধরে রেল স্টেশন সংলগ্ন এই বাজারে ব্যবসা করি। এটাই আমাদের রুজিরুটি। আজ এক লহমায় সব শেষ হয়ে গেল। এই জন্যই কী তৃণমূল সরকারকে সরিয়ে বিজেপিকে আনা হয়েছে। এভাবে মানুষের পেটে লাথি মারবে ওঁরা! আগে কাজ দিক, শিল্প আসুক, সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করুক, তারপর না হয় এই উচ্ছেদ করতো। এখন এত হাজার হাজার মানুষ কোথায় যাবে!” যদিও এই উচ্ছেদ বিষয়ে রেলের তরফে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা