জেলায় মাত্র ৩০ হাজার কৃষক পান কিষান সম্মাননিধি, কৃষি কর্মশালায় সরব বিজেপি বিধায়করা
দুর্গাপুর, ১২ জুন (হি.স.) : পশ্চিম বর্ধমান জেলায় মাত্র ৩০ হাজার কৃষক প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মাননিধি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন—এই তথ্য সামনে আসতেই দুর্গাপুরে আয়োজিত এক কৃষি কর্মশালায় আগের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন বিজেপি বিধায়করা। তাঁদ
জেলায় মাত্র ৩০ হাজার কৃষক পান কিষান সম্মাননিধি, কৃষি কর্মশালায় সরব বিজেপি বিধায়করা


দুর্গাপুর, ১২ জুন (হি.স.) : পশ্চিম বর্ধমান জেলায় মাত্র ৩০ হাজার কৃষক প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মাননিধি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন—এই তথ্য সামনে আসতেই দুর্গাপুরে আয়োজিত এক কৃষি কর্মশালায় আগের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন বিজেপি বিধায়করা। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে বহু প্রকৃত কৃষককে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।

শুক্রবার দুর্গাপুরের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগে ‘প্রাকৃতিক কৃষি’ বিষয়ক বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলার প্রশাসনিক ও কৃষি দফতরের আধিকারিকরা, পাশাপাশি বিভিন্ন বিধানসভা এলাকার বিধায়করা। কর্মশালার মূল বিষয় ছিল রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব ও বিষমুক্ত কৃষির প্রসার।

কর্মশালায় কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পশ্চিম বর্ধমান জেলায় বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার কৃষক কিষান সম্মাননিধির সুবিধা পান। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই। তিনি বলেন, “জেলায় মাত্র ৩০ হাজার কৃষক এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। এই সংখ্যা শুধু কাঁকসা ব্লকেই হওয়া উচিত ছিল। আগের তৃণমূল সরকার কৃষকদের কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পেতে দেয়নি।”

পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারির অভিযোগ, “তৃণমূলের আমলে সরকারি সুবিধা পেতে গেলে দলীয় পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। প্রকৃত কৃষক বা উপভোক্তাদের অনেক ক্ষেত্রেই বঞ্চিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা রাজনৈতিকভাবে বণ্টন করা হত।”

দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ও কৃষি পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, “জেলায় কৃষি উৎপাদন হচ্ছে, পর্যাপ্ত জমিও রয়েছে। অথচ এখনও একটি হিমঘর গড়ে তোলা হয়নি।”

অন্যদিকে, বিধায়কদের অভিযোগের জবাবে জেলা কৃষি দফতরের দাবি, কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা মেনেই কিষান সম্মাননিধির সুবিধাভোগীদের নির্বাচন করা হয়েছে।

কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম বর্ধমান জেলায় প্রায় ৩৯ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়। গত মরশুমে জেলার মোট ধান উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ২ হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন। এছাড়া সর্ষে, মুসুর ডাল ও ভুট্টারও চাষ হয় জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande