
আগরতলা, ১৫ জুন (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর পুর পরিষদের কাউন্সিলর তথা ধর্মনগর যুব মোর্চার মণ্ডল সভাপতি রাহুল কিশোর রায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় এল। সোমবার ত্রিপুরা হাইকোর্ট মামলার পাঁচ অভিযুক্তকে আগাম জামিন মঞ্জুর করেছে। বিচারপতি বিশ্বজিৎ পালিতের একক বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, গত ৪ মে ধর্মনগর উপ-নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাহুল কিশোর রায়ের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে চাপে ছিলেন বলে দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা। পরবর্তীতে রাহুল কিশোর রায়ের আত্মহত্যার ঘটনায় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
রাহুল কিশোর রায়ের স্ত্রী অনন্যা ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, উপ-নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সংঘটিত হামলার ঘটনাই তাঁর স্বামীর আত্মহত্যার অন্যতম কারণ। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ধর্মনগর থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয় এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
মামলায় নাম জড়ানো অভিযুক্তরা প্রথমে ধর্মনগর আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানালেও আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর অভিযুক্তদের মধ্যে পাঁচজন ত্রিপুরা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। দীর্ঘ শুনানির পর সোমবার উচ্চ আদালত তাঁদের আগাম জামিন মঞ্জুর করে। আগাম জামিন পাওয়া পাঁচ অভিযুক্ত হলেন— মনোজ পুরকায়স্থ, প্রবাল কান্তি দেব, হীরকজ্যোতি নাথ, সরোজ দেব এবং অভিজিৎ দাস।
উল্লেখ্য, এই মামলায় এর আগেই কঙ্কন চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। যদিও মামলার তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, হাইকোর্টের এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মামলার তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং ভবিষ্যতে আরও কোনও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে রাজ্যবাসীর। বহুল আলোচিত এই মামলার পরবর্তী অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে কৌতূহল তুঙ্গে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ