
হাইলাকান্দি (অসম), ১৫ জুন (হি.স.) : হাইলাকান্দি জেলায় আইনশৃঙ্খলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-র ১৬৩ ধারার বলে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অভিষেক জৈন।
আজ সোমবার এক আদেশ জারি করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অভিষেক জৈন জানিয়েছেন, কিছু সমাজবিরোধী সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি এবং সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা করছে বলে প্রশাসনের কাছে খবর এসেছে। এ ধরনের হুমকিকে আগে থেকেই মোকাবিলা করতে সমগ্র হাইলাকান্দি জেলাজুড়ে বেশ কয়েকটি কার্যকলাপ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জেলা প্রশাসনের পূর্বানুমতি ছাড়া বেআইনি সমাবেশ, মিছিল, জনসভা করা এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া যে কোনও জনবহুল এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমবেত হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া, লাউডস্পিকার ব্যবহার করে বা না-করে, উস্কানিমূলক, সাম্প্রদায়িক, রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য বা স্লোগান দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনও সংস্থা, এনজিও বা সংগঠন কর্তৃক মাইক্রোফোন বা যে কোনও শব্দ-বর্ধক যন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট এবং চরম জরুরি প্রয়োজনেই অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবহার করা যাবে।
জারিকৃত নির্দেশিকায় উস্কানিমূলক পোস্টের মাধ্যমে ক্ষতিকারক সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তদুপরি, অননুমোদিত কার্যকলাপের জন্য যানবাহনের ব্যবহার, যার মধ্যে বিভিন্ন জাতিগত, ভাষাগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা, বিদ্বেষ বা সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এমন আপত্তিকর বিষয়বস্তু সংবলিত ব্যানার, পোস্টার বা দেওয়াল লিখন প্রদর্শন অন্তর্ভুক্ত, তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, ধারালো অস্ত্র বা লম্বা লাঠি বহন করার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যা অন্য মানুষের ক্ষতি করতে পারে বা হুমকির সৃষ্টি করতে পারে।
জনসাধারণের সমাবেশজনিত এই বিধি-নিষেধগুলি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মী, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী, বা সরকারি কর্তব্যরত আধিকারিক এবং কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। পরিস্থিতি উপলব্ধি করে এই আদেশ একতরফাভাবে জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় ক্ষুব্ধ যে কোনও ব্যক্তির সংশোধন, পরিবর্তন বা বাতিলের জন্য কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার রয়েছে। আদেশ লঙ্ঘনকারীকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-র ২২৩ ধারা বা অন্য কোনও প্রাসঙ্গিক ধারার অধীনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে আদেশে জানানো হয়েছে।
আজ ১৫ জুন থেকে কার্যকর হওয়া এই আদেশ আগামী ৫ জুলাই পর্যন্ত সমগ্র জেলায় বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অভিষেক জৈন।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস