
কলকাতা, ১৫ জুন (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গে বিধায়কদের জাল স্বাক্ষর মামলায় সিআইডি-র তল্লাশি সংক্রান্ত মামলার শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই এই জাল স্বাক্ষর মামলার বিষয়ে হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চে আবেদন জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে একই মামলার শুনানি দুটি আলাদা বেঞ্চে হলে পরস্পরবিরোধী নির্দেশ আসার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বিচারপতি ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, এই মামলার শুনানি বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চেই হওয়া উচিত। এই যুক্তিতেই তিনি মামলার শুনানি থেকে ব্যক্তিগতভাবে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
উল্লেখ্য, এই জাল স্বাক্ষর মামলার তদন্ত চলাকালীন সিআইডি-র একটি দল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছায়। যদিও প্রথমদিকে সিআইডি আধিকারিকদের কার্যালয়ে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা তর্কবিতর্কের পর তদন্তকারী দলটি ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। এরপর আধিকারিকরা প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে সেখানে তল্লাশি অভিযান চালান।
তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী কিশোর দত্ত হাইকোর্টে অভিযোগ করেন, সিআইডি কোনো বৈধ সার্চ ওয়ারেন্ট এবং সিজার লিস্ট ছাড়াই জোরপূর্বক কার্যালয়ে ঢুকেছিল। সিআইডি-র এই পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল দল। চলতি সপ্তাহে বিচারপতি ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তিনি এর থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
এই একই জাল স্বাক্ষর মামলায় আইনি স্বস্তি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও, যার শুনানি হয় বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে। আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দিয়ে জানিয়েছিল যে, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সিআইডি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না। পাশাপাশি, আদালত অভিষেককে তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করার নির্দেশও দিয়েছিল।
বিচারপতি ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দেন, যখন জাল স্বাক্ষর মামলা সংক্রান্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনটির শুনানি ইতিমধ্যেই চলছে, তখন একই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য মামলার শুনানি অন্য কোনো বেঞ্চের করা উচিত নয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি