
হাফলং (অসম), ১৫ জুন (হি.স.) : চলে গেলেন উমরাংসোর বিশিষ্ট সাংবাদিক অসীম চৌধুরী। আজ সোমবার ভোররাতে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। অসীম চৌধুরীপ প্রয়াণে সাংবাদিক মহল সহ সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রয়াতের পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন অসীম চৌধুরী। সোমবার ভোর প্রায় ২-টা ৫৫ মিনিটে তিনি পরলোকযাত্রা করেছেন। ১৯৬৮ সালের ৮ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন অসীম চৌধুরী। জীবনের অধিকাংশ সময় সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সত্যনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও জনমুখী সাংবাদিকতার জন্য তিনি সুপরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে, পার্বত্য এলাকার মানুষের সমস্যা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি শুধু উমরাংসো নয়, সমগ্র ডিমা হাসাও জেলার মানুষের আস্থা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ীর মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। অনেকেই তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সাংবাদিকতা ও সমাজের প্রতি তাঁর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন।
তাঁর সহকর্মীরা বলেন, অসীম চৌধুরী ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান, সৎ এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিক। জনসেবাকে সাংবাদিকতার মূল আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে তিনি যে কর্মময় জীবন অতিবাহিত করেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
তাঁর প্রয়াণে সাংবাদিকতা জগৎ একজন অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ সংবাদকর্মীকে হারাল। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি বিভিন্ন মহল গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে। এদিকে ডিমা হাসাও জেলার প্রবীণ সাংবাদিক অসীম চৌধুরীর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক সমরজিৎ হাফলংবার। সাংবাদিকতা জীবনে তিনি নিষ্ঠা, সততা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলোকে তুলে ধরতে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর এই মূল্যবান অবদান সর্বদা শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তাঁর প্রয়াণ শুধু সাংবাদিক মহলের জন্যই নয়, সমগ্র ডিমা হাসাওবাসীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এই গভীর শোকের মুহূর্তে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব