
আগরতলা, ১৫ জুন (হি.স.) : পশ্চিম ত্রিপুরা জেলারসিমনা বিধানসভা এলাকার শরৎচন্দ্র চৌধুরীপাড়ায় ভালুকের আক্রমণে গুরুতরভাবে আহত ব্যক্তির চিকিৎসার ব্যবস্থা করে মানবিক উদ্যোগের নজির স্থাপন করলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক। আহত ব্যক্তির নাম রাকেশ খোরাং। বর্তমানে তিনি আগরতলায় গোবিন্দ বল্লভ পন্ত (জিবিপি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি সিমনা বিধানসভার শরৎচন্দ্র চৌধুরীপাড়ায় ভালুকের আক্রমণের শিকার হন রাকেশ খোরাং। হামলায় তাঁর পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় তিনি উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। বিষয়টি জানতে পেরে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক নিজেই আহত ব্যক্তির বাড়িতে যান এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। পরে তাঁকে দ্রুত আগরতলায় জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমা ভৌমিক জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সিমনা বিধানসভা এলাকায় বন্যপ্রাণীর, বিশেষ করে ভালুকের আক্রমণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় এলাকাজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং সন্ধ্যার পর অনেকেই বাড়ির বাইরে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, “রাকেশ খোরাং অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সদস্য। ভালুকের আক্রমণে তাঁর পায়ে গুরুতর চোট লাগে। অর্থের অভাবে তিনি সঠিক চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। খবর পেয়ে আমি তাঁর বাড়িতে যাই এবং চিকিৎসার জন্য তাঁকে জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে আসি।”
প্রতিমা ভৌমিক আরও জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তিনি রাজ্যের বন দফতরের মন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। বনমন্ত্রী আহত ব্যক্তির বিনামূল্যে চিকিৎসা ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
একই সঙ্গে তিনি বন দফতর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে বন্যপ্রাণীর আক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। তাঁর মতে, বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো, সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সিমনা ও আশপাশের বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় বন্যপ্রাণীর লোকালয়ে প্রবেশের ঘটনা বেড়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন এলাকার মানুষ।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ