
আগরতলা, ১৫ জুন (হি.স.) : নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, জ্বালানি ও রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধি এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের দাবিতে সোমবার রাজধানী আগরতলায় যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি, জলকামান নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জের ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনজনের হাত ভেঙে যায় বলে দাবি করেছে যুব কংগ্রেস।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন কংগ্রেস ভবনের সামনে থেকে যুব কংগ্রেসের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, সিএনজি, পিএনজি, এলপিজি, পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার এবং বেকার সমস্যার সমাধানের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে শহরের বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করেন।
মিছিলটি আরএমএস চৌমুহনী এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাঁদের অগ্রগতি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে। এরপরই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে জলকামান ব্যবহার করে। তবে তাতেও আন্দোলনকারীরা পিছু না হটলে অনেকেই রাস্তায় বসে ও শুয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকেন।
পুলিশ বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এরপর পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে অন্তত ১২ জন যুব কংগ্রেস কর্মী আহত হন। ঘটনাস্থলে কিছু সময়ের জন্য চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচলও ব্যাহত হয়।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রদেশ যুব কংগ্রেস সভাপতি নীলকমল সাহা বলেন, “কোচিং মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে দেশের ২২ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গোটা দেশ ক্ষুব্ধ। অথচ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এখনও পদে বহাল রয়েছেন। আমরা তাঁর পদত্যাগ দাবি করছি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও এই ঘটনার দায় নিতে হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমিয়ে রাখতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে। যুব কংগ্রেসের আন্দোলন শুধু আগরতলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আগামী দিনে রাজ্যের সর্বত্র এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
প্রায় ৪০ মিনিট ধরে আরএমএস চৌমুহনী এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকে। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারী যুব কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের আটক করে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যায়। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
এদিকে, বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলসহ বিভিন্ন স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুব কংগ্রেস পুলিশের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুললেও, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ