এনসিপিআই-তে যোগদানের পরই নিরাপত্তা বাড়ল তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের, ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরির সুরক্ষা পাচ্ছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতা, ১৫ জুন (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ ‘ন্যাশনালিষ্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাচ্ছে। এই আবহে বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ওয়া
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়


কলকাতা, ১৫ জুন (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ ‘ন্যাশনালিষ্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাচ্ছে। এই আবহে বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সূত্র মারফত জানা গেছে, এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া অন্যান্য বিক্ষুব্ধ সাংসদদেরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে এই ক্রমবর্ধমান গতিবিধির মাঝেই হাওড়ায় অবস্থিত এনসিপিআই কার্যালয়ের বাইরেও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে বলে খবর। তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদ দল ছেড়ে এনসিপিআই-র হাত ধরার পরই নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই রদবদল করা হলো।

সূত্রের খবর, বিক্ষুব্ধ সাংসদরা সম্প্রতি লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। এর পরই এই রাজনৈতিক তৎপরতা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এনসিপিআই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত একটি দল হিসেবেই গণ্য হতো। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক সাংসদ যোগ দেওয়ায় দলটি আচমকাই জাতীয় স্তরে চর্চার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এনসিপিআই-র মূল রাজনৈতিক ফোকাস থাকবে পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরার ওপর। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আলাদা হওয়া সত্ত্বেও এই বিক্ষুব্ধ সাংসদরা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-কে তাঁদের সমর্থন বজায় রাখবেন বলেই সম্ভাবনা রয়েছে।

এনসিপিআই মূলত কোনো ব্যাপক জনভিত্তি সম্পন্ন রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত নয়। দলটি ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিলেও কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি। তবে ২০ জন সাংসদ দলে যোগ দেওয়ার পর দলের সক্রিয়তা এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে। এনসিপিআই-র সঙ্গে যুক্ত একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজে নতুন সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে দাবি করা হয়েছে যে, লোকসভায় প্রতিনিধিত্বের নিরিখে দলটি এখন পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একসাথে ২০ জন বর্তমান সাংসদের একটি তুলনামূলক কম পরিচিত রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়া পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অত্যন্ত নজিরবিহীন ও এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। তাঁদের মতে, এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন রাজ্যের রাজনীতির অভিমুখ ও ভবিষ্যতের সমীকরণের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এই ঘটনা সংসদীয় রাজনীতিতে পরিবর্তনশীল জোট এবং নতুন মেরুকরণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande