
মোহনপুর (ত্রিপুরা), ১৫ জুন (হি.স.) : গ্রামবাসীদের তৎপরতা ও প্রতিরোধের মুখে পড়ে গাঁজা পাচারকারীরা দুটি বাইক ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাইক দুটিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। পাশাপাশি ব্যবহৃত দুটি বাইকও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি রবিবার গভীর রাতে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সিধাই থানাধীন মোহনপুর মহকুমার হরিনাখলা গ্রামে ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার গভীর রাতে হরিনাখলা গ্রামের মূল সড়ক দিয়ে একাধিক মোটরসাইকেলের অস্বাভাবিক যাতায়াত লক্ষ্য করেন গ্রামবাসীরা। গভীর রাতে বারবার বাইকের ছোটাছুটি দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। এরপর গ্রামের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এলাকায় নজরদারি শুরু করেন এবং সন্দেহভাজন বাইকগুলিকে আটকানোর চেষ্টা করেন।
গ্রামবাসীদের সক্রিয় প্রতিরোধের মুখে পড়ে দুই বাইক আরোহী পরিস্থিতি বেগতিক বুঝতে পেরে তাঁদের বাইক ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এরপর এলাকাবাসী বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে সিধাই থানায় জানায়।
খবর পেয়ে সিধাই থানার ওসি, মোহনপুরের এসডিপিও, মহকুমা প্রশাসনের ডেপুটি কালেক্টর সুব্রত কুমার বিশ্বাস এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ডেপুটি কালেক্টরের উপস্থিতিতে পুলিশ উদ্ধার হওয়া দুটি বাইকে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় বাইক দুটির মধ্যে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় প্রায় ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়।
পুলিশ উদ্ধার হওয়া গাঁজা এবং দুটি বাইক বাজেয়াপ্ত করে থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, গাঁজাগুলি পাচারের উদ্দেশ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে পাচার চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত এবং গাঁজার উৎস কোথায়, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রবিবার রাতেই মোহনপুর মহকুমার ডেপুটি কালেক্টর সুব্রত কুমার বিশ্বাস উদ্ধার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রশাসনের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে হরিনাখলা গ্রামজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসীদের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় এনডিপিএস আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পলাতক পাচারকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি গাঁজা পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের খুঁজে বের করতেও অভিযান চালানো হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ