
ঝাড়গ্রাম, ১৮ জুন (হি.স.) : খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে এসে গভীর পাতকুয়োতে পড়ে মৃত্যু হল একটি হস্তিশাবকের। বৃহস্পতিবার ভোরে ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের বড়খাঁকড়ি অঞ্চলের বাছুরখোঁয়াড় গ্রামে এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়দের দাবি, শাবকটিকে উদ্ধারের জন্য দীর্ঘক্ষণ মরিয়া চেষ্টা চালায় তার মা-সহ গোটা হাতির দল। সেই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই।
বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে তপোবন জঙ্গলের দোরখুলি দিক থেকে প্রায় ২৫টি হাতির একটি দল লোকালয়ে ঢোকে। রাত প্রায় ৩টা নাগাদ একটি ইটভাটা সংলগ্ন কাঁঠাল গাছের ফল খাওয়ার সময় দুই থেকে তিন বছর বয়সি একটি হস্তিশাবক অন্ধকারে গভীর পাতকুয়োটি দেখতে না পেয়ে তাতে পড়ে যায়। কুয়োতে জল না থাকলেও সেটি অত্যন্ত গভীর হওয়ায় শাবকটি আর উপরে উঠতে পারেনি।
ভোরে স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পান, হাতির দলটি কুয়োর চারপাশে ঘোরাফেরা করছে। শুঁড় বাড়িয়ে এবং কুয়োর ধারের মাটি সরিয়ে শাবকটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছিল তারা। পরে অধিকাংশ হাতি জঙ্গলের দিকে ফিরে গেলেও একটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী হাতি দীর্ঘক্ষণ কুয়োর ধারে দাঁড়িয়ে ছিল। বনকর্মীদের অনুমান, সেটিই ছিল শাবকটির মা।
খবর পেয়ে চাঁদাবিলা রেঞ্জের প্রতাপপুর বিটের বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রথমে মা-হাতিটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর জেসিবি মেশিনের সাহায্যে কুয়োর এক পাশ কেটে শাবকটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বনদফতরের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘক্ষণ হাতির পালের চলাচলের ফলে কুয়োর ধারের মাটি ভেঙে ভিতরে পড়ে যায়। তাতেই শাবকটির শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও চিকিৎসার আগেই তার মৃত্যু হয়। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
বনদফতরের এক আধিকারিক জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাবকটিকে জীবিত উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা চালায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, জঙ্গলমহলে হাতির লোকালয়ে ঢুকে পড়া কিংবা ফসলের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা নতুন নয়। তবে এই ঘটনায় একটি হস্তিশাবকের মৃত্যু এলাকাবাসীর পাশাপাশি বনকর্মীদেরও মর্মাহত করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো