নয়াবাদ তিতাস নাট্যদলের ১৪–তম বার্ষিকী উপলক্ষে রবীন্দ্র সদনে বিশেষ আলোচনাসভা
কলকাতা, ১৮ জুন ( হি. স.): ১৪ বছর পূর্ণ করল নয়াবাদ তিতাস। সেই উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় থিয়েটারের ভবিষ্যত নিয়ে আপনি কী ভাবেন - শীর্ষক আলোচনাসভা হয়ে গেল কলকাতার রবীন্দ্র সদনে। আলোচনাসভায় প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল স্কুল অফ
নয়াবাদ তিতাস নাট্যদল


নয়াবাদ তিতাস নাট্যদল


কলকাতা, ১৮ জুন ( হি. স.): ১৪ বছর পূর্ণ করল নয়াবাদ তিতাস। সেই উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় থিয়েটারের ভবিষ্যত নিয়ে আপনি কী ভাবেন - শীর্ষক আলোচনাসভা হয়ে গেল কলকাতার রবীন্দ্র সদনে। আলোচনাসভায় প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামার (এনএসডি) নির্দেশক চিত্তরঞ্জন ত্রিপাঠী এবং সংস্কার ভারতীর সর্বভারতীয় সম্পাদিকা নীলাঞ্জনা রায়। বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী ও রুদ্রনীল ঘোষ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আবির এবং আহবায়ক ছিলেন শর্বরী মুখার্জি। সহযোগিতায় ছিলেন কৃশানু গোস্বামী এবং অরিজিনাল ওয়ান থিয়েটার। আলোচনাসভার শেষে উপস্থাপিত হয় অপাংক্তেয় নাটক। প্রযোজনায় নয়াবাদ তিতাস এবং নির্দেশনায় আবির।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন নয়াবাদ তিতাসের সভাপতি অভিজিৎ রায়, নয়াবাদ তিতাসের পরিচালক ও নাট্যকার আবির, সংস্কার ভারতীর সম্পাদিকা নীলাঞ্জনা রায়, ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামার (এনএসডি) নির্দেশক চিত্তরঞ্জন ত্রিপাঠী এবং বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। প্রথমার্ধে সঞ্চালনার দায়িত্ব নেন শর্বরী মুখার্জি। তিনি বলেন, দীর্ঘ সাত বছর পর রবীন্দ্র সদনের মঞ্চে নয়াবাদ তিতাস নাট্য উপস্থাপনার সুযোগ পেয়েছে। তাঁদের নাট্যদল আবারও মূল স্রোতে ফিরতে পেরে আপ্লুত। বক্তব্যের রেশ টেনে স্বাগত ভাষণে অভিজিৎ রায় বলেন, নাটকের মাধ্যমে সমাজের দেখা - অদেখা দিককে তুলে ধরাই একমাত্র উদ্দেশ্য। এও বলেন, নাটকের মঞ্চকে অরাজনৈতিক রাখতে নয়াবাদ তিতাসকে পেরোতে হয়েছে অনেক বাধাবিপত্তি। বক্তব্যের শেষে তিনি এনেএসডি-র নির্দেশককে এরাজ্যে ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামার শাখা তৈরির আবেদন জানিয়েছেন। সংস্কৃতির মঞ্চকে রাজনীতিমুক্ত রাখার প্রসঙ্গে পাপিয়া অধিকারী বলেন, রাজনীতি হল শ্রেষ্ঠ নীতি। বাংলার হৃত গৌরবকে পুনরুদ্ধার করতে সকলকে জোটবদ্ধ হওয়ার বার্তা দেন তিনি।

আলোচনাসভার অন্যতম বক্তা নীলাঞ্জনা রায় বলেন, নাটক সময়ের ভাষ্যকার, সমাজের দর্পণ। দেশ-কাল নির্বিশেষে নাটকই দেশ ও দশের আত্মিক জাগরণ ঘটিয়ে জাতির সার্বিক বিকাশসাধন করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে নাটকের রূপ কী ধরনের হওয়া উচিত সেই প্রসঙ্গে বলেন, ক্রমে বাড়ছে রাষ্টবাদী নাটকের প্রয়োজনীয়তা। নাটকের মধ্য দিয়ে তুলে ধরতে হবে ভারতের ইতিহাস, শিল্পকলা এবং সংস্কৃতিকে। নাটকের কাহিনী চয়নে রাখতে হবে লোকায়ত শিল্প - সংস্কৃতির ছোঁয়া। সামাজিক দায়িত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধগুলি প্রাথমিকভাবে যেন স্থান পায়, সেই বিষয়টিও নজরে রাখা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি শিশু এবং তরুণ শিল্পীদের যাতে নাটকের মঞ্চে আরও বেশি করে সুযোগ দেওয়া হয়, সেই দিকটিও তুলে ধরেন তিনি। বক্তব্যের রেশ টেনে চিত্তরঞ্জন ত্রিপাঠী ভারতের সনাতন সংস্কৃতিকে তুলে ধরার বার্তা দিয়েছেন। নাতিদীর্ঘ বক্তব্যের শেষে বাংলায় ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামার শাখা গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এছাড়া প্রতিবছর কলকাতায় ন্যাশনাল থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল এবং তিনমাসের কর্মশালা আয়োজনেরও আশ্বাস দেন তিনি। বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তুলে ধরেন এই নাট্যদলের সূচনার ইতিহাস। বাংলার আকাশে নাট্য সংস্কৃতি এবার ডানা মেলবে, সেই বিষয়েও আশাবাদী তিনি। বলেন, ভালো কাজ দেখার প্রতীক্ষায় রয়েছেন শিল্পীরা, রয়েছেন লক্ষাধিক দর্শক। নয়াবাদ তিতাস–এর দীর্ঘ ১৪ বছরের পরিশ্রমকে কুর্নিশ জানিয়েছেন তিনি। বক্তব্যের শেষে দর্শকদের অনুরোধে তিনি কবিতা পরিবেশন করেন।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৃজিতা বসাক




 

 rajesh pande