
তিরুবনন্তপুরম, ১৮ জুন (হি.স.): শিগেলা সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় কেরলমে স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে রাজ্য সরকার। একইসঙ্গে ডেঙ্গু ও লেপ্টোস্পাইরোসিস (ইঁদুর জ্বর)-এর সংক্রমণও ক্রমশ বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শিগেলা সংক্রমণে আরও এক প্রবীণ মহিলার মৃত্যুর পরই নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বুধবার মালাপ্পুরম জেলার আলিপারাম্বার ৭৫ বছর বয়সী এক মহিলা এই সংক্রমণে মারা যান। একই দিনে আরও ১২ জনের শরীরে শিগেলা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন ত্রিশূর জেলার আরিমপুর এলাকার এক প্রবীণ দম্পতি এবং কন্নুর জেলার ৬২ বছর বয়সী এক মহিলা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ দিনে কেরলমে মোট ৯১ জনের শরীরে শিগেলা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দাবি, চলতি বছরে একই সময়ের তুলনায় সংক্রমণের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
শুধু শিগেলাই নয়, রাজ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপও দ্রুত বাড়ছে। বুধবার একদিনেই নতুন করে ১০৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। চলতি জুন মাসে এখনও পর্যন্ত মোট ১,০২৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে।
অন্যদিকে, লেপ্টোস্পাইরোসিস বা ‘ইঁদুর জ্বর’-এ নতুন করে ১৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছরে এই রোগে কেরলমে ইতিমধ্যেই ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জ্বর-সহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে ইতিমধ্যেই ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন।
সংক্রামক রোগের বিস্তার রুখতে রাজ্যের সমস্ত স্থানীয় প্রশাসনকে তিন দিনের ‘ড্রাই ডে’ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। এই কর্মসূচির আওতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো, জমে থাকা জল পরিষ্কার করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিগেলা মূলত দূষিত খাবার ও পানীয় জলের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বিশুদ্ধ পানীয় জল পান করা এবং নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সংক্রমিত ব্যক্তিদের জনসমাগমে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অসুস্থতার উপসর্গ থাকলে শিশুদের স্কুলে না পাঠানোর আবেদনও জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
সরকারের পক্ষ থেকে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, জনসচেতনতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া এই পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব নয় বলে স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত সতর্কতা, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই সংক্রামক রোগের বিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য