
কলকাতা, ১৮ জুন (হি. স.) : কয়লা এবং বালি পাচার মামলার তদন্তে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) একের পর এক সমন এড়ানোর পর, অবশেষে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হলেন বিতর্কিত পুলিশ আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডল। একাধিক নোটিশের পর এদিন সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে অবস্থিত ইডির দফতরে হাজিরা দেন তিনি। তদন্তকারী আধিকারিকেরা এই পাচার চক্রের নেপথ্যে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে জানা গেছে।
সূত্র মারফত জানা গেছে, এর আগে শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দিয়ে মনোরঞ্জন মণ্ডল লাগাতার ইডির হাজিরা এড়িয়ে আসছিলেন। ইডির তরফে তাঁকে বারবার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা দেননি। মূলত, কয়লা পাচার মামলার তদন্তের সূত্র ধরে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ইডির একটি বিশেষ দল আসানসোলের রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া এবং বুদবুদ সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল। সেই অভিযানে জামুড়িয়ার এক ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়।
টাকা উদ্ধারের ওই দিনই কেন্দ্রীয় এজেন্সির আধিকারিকেরা বুদবুদ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি) মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাসভবনেও তল্লাশি চালান। এরপর গত ১১ মার্চ আবারও তাঁর বাড়িতে হানা দেয় ইডি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক বাড়লে মনোরঞ্জন মণ্ডলকে বুদবুদ থানা থেকে সরিয়ে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) বদলি করা হয়েছিল। ইডি এখন মনোরঞ্জন মণ্ডলের বয়ান এবং উদ্ধার হওয়া নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করে মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই কয়লা পাচার চক্রের সঙ্গে আরও বহু প্রভাবশালী ও বড় নাম জড়িয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি