
কলকাতা, ১৮ জুন (হি.স.): প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রদবদল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ছয় বিধায়ক বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠক চলাকালীন তাঁরা মমতার নিরাপত্তায় আগে থেকে মোতায়েন থাকা কর্মীদের পুনরায় বহাল করার অনুরোধ জানান। তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় কোনও কমতি করা হয়নি এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করা সম্ভব নয়।
বিধানসভায় রাজ্যপালের অভিভাষণের পর তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব, রহিম বক্সী এবং রুকবানুর রহমান মুখ্যমন্ত্রীর কক্ষে যান এবং তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেন। এই সমস্ত নেতাদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ শিবিরের বলে মনে করা হয়।
বৈঠক চলাকালীন বিধায়করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায় দীর্ঘকাল ধরে মোতায়েন থাকা নিরাপত্তা কর্মীদের পুনরায় নিয়োগের দাবি তোলেন। সূত্র মারফত জানা গেছে, এই বিষয়ে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও অনুরোধ করেননি, বরং বিধায়করা নিজেদের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন।
আসলে, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন বুধবার রাতে অভিযোগ করেছিলেন যে, প্রায় ২০ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায় থাকা কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের জায়গায় নতুন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন যে, এর ফলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন, তখন তাঁর সুরক্ষার জন্য পাঁচজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আধিকারিক (পিএসও) নিযুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ওই আধিকারিকদের রাজ্য পুলিশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সম্প্রতি তাঁদের মূল বিভাগে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের জায়গায় নতুন নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই পুরো বিতর্ক প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া জেড প্লাস ক্যাটাগরির সুরক্ষায় কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। একজন নিরাপত্তা কর্মীও কমানো হয়নি।” তিনি আরও বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিরাপত্তা কর্মীরাও স্থায়ী হন না; একইভাবে কোনও সরকারি ব্যবস্থায় কোনও ব্যক্তির পছন্দ অনুযায়ী নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করা যায় না।
সূত্রের খবর, বৈঠকে তৃণমূল নেতারা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় দলীয় নেতা ও কর্মীদের গ্রেফতারি ও হয়রানির প্রসঙ্গও তোলেন। পুলিশি পদক্ষেপ এবং দুর্নীতির মামলায় হওয়া গ্রেফতারি নিয়ে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে ফুটপাথ হকারদের উচ্ছেদে যে অভিযান চালানো হচ্ছে, তা বন্ধ করার দাবিও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানানো হয়।
বৈঠকের পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানান যে, বিধানসভায় বিরোধী বিধায়কদের বসার ব্যবস্থা, ঘর বরাদ্দ এবং সদনে বলার সুযোগ পাওয়ার মতো বেশ কিছু সংসদীয় বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে কুণাল ঘোষ বলেন, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং প্রবীণ বিধায়ক হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে উপযুক্ত সম্মান দেওয়া হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি