নিউ শিলং মাস্টার প্ল্যানে ৪৫০ কোটি টাকার পর্যটন কেন্দ্রের প্রস্তাব : মন্ত্রী টিমোথি শিরা
শিলং, ১৮ জুন (হি.স.) : মেঘালয়ের পর্যটন উন্নয়নের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে নিউ শিলংকে। এই লক্ষ্যে রাজ্য সরকার একটি উচ্চাভিলাষী মাস্টার প্ল্যানের প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য। এই প্রস্তাবের অন্যতম আকর্ষণ ৪৫০ কোটি টাকা ব্
কর্মশালায় পর্যটনমন্ত্রী টিমোথি ডি শিরা, কমিশনার-সচিব রোসেটা মেরি কুরবাহ সহ অন্য আধিকারিক


শিলং, ১৮ জুন (হি.স.) : মেঘালয়ের পর্যটন উন্নয়নের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে নিউ শিলংকে। এই লক্ষ্যে রাজ্য সরকার একটি উচ্চাভিলাষী মাস্টার প্ল্যানের প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য। এই প্রস্তাবের অন্যতম আকর্ষণ ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ বিশাল মনোলিথ টাওয়ার। এটি নির্মিত হলে ভারতের সর্বোচ্চ স্মৃতিস্তম্ভগুলির মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে থাকবে, যা স্ট্যাচু অব ইউনিটির পরেই অবস্থান করবে।

শিলঙে পর্যটন দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য উন্নয়ন সংক্রান্ত রাজ্যস্তরের এক পরামর্শমূলক কর্মশালায় এই পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন মেঘালয়ের পর্যটনমন্ত্রী টিমোথি ডি শিরা। তিনি জানান, এই পরিকল্পনার মূল আকর্ষণ হলো ১২৩ মিটার উচ্চতার একটি আইকনিক টাওয়ার, যা একটি বৃহৎ পর্যটন পরিকাঠামো ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত থাকবে স্কাইওয়াক, আধুনিক ইমারসিভ গ্যালারি, রেস্তরাঁ, ক্যাফেটেরিয়া, স্মারক সামগ্রীর দোকান এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক সুবিধা। এর মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি উচ্চ ব্যয়ক্ষমতাসম্পন্ন পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত পর্যটন অঞ্চলে একটি বিলাসবহুল রিসর্ট, একটি পাঁচতারা মানের হোটেল, কনভেনশন সেন্টার, অনুষ্ঠানস্থল এবং নির্মীয়মাণ ফুটবল স্টেডিয়ামের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জনসাধারণের জন্য একটি পার্ক, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক এবং মেঘালয়ের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরার জন্য বিশেষ সাংস্কৃতিক পার্কও গড়ে তোলা হবে।

রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শিরা এই উদ্যোগকে রাজ্যের পর্যটন নীতিতে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি পর্যটন খণ্ডের উন্নয়ন তদারকি, বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশেষ ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট অর্গানাইজেশন গঠনের ঘোষণাও করেছেন।

টেকসই উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে পর্যটনমন্ত্রী শিরা বলেন, ‘পর্যটনের বিকাশ যেন পরিবেশ বা আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ক্ষতির কারণ না হয়।’

পর্যটন বিভাগের কমিশনার-সচিব রোসেটা মেরি কুরবাহ জানান, বর্তমানে বছরে প্রায় ১৮ লক্ষ পর্যটক মেঘালয়ে ভ্রমণ করেন। রাজ্যের লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং পর্যটকদের স্বল্প সময়ের সফরের পরিবর্তে দীর্ঘ সময় অবস্থানে উৎসাহিত করা।

তিনি আরও বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নির্ভরযোগ্য জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সৌন্দর্যায়নের মতো পরিকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি আতিথেয়তা শিল্পের সম্প্রসারণের সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও ঐতিহ্যকে পর্যটন অবকাঠামোর অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

কর্মশালায় উমিয়ামকে বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হয়। পরিকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কর্মশালায়।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande