
কলকাতা, ১৮ জুন (হি.স.) : আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে আগামী ১৯ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত তিন দিনের বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘোষণা করেন।
এদিন তিনি জানান যে, বর্ষার মরশুমে ময়দান এলাকায় কাদা হওয়ার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানটি রেড রোডে আয়োজন করা হবে। ২১ জুনের এই মূল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও উপস্থিত থাকবেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এ বছর যোগ দিবস আয়োজনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন রেকর্ড গড়ার প্রয়াস চালানো হবে। তিনি জানান, মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই ৩৮ হাজার মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন এবং আরও লক্ষাধিক মানুষের এই সমাগমে শামিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯ জুন সকাল ৭টায় ‘রান ফর যোগা’-র আয়োজন করা হবে। এই ম্যারাথনটি কলকাতা পুরনিগমের সদর দফতর থেকে রাইটার্স বিল্ডিং (মহাকরণ) পর্যন্ত যাবে। এর উদ্দেশ্য হলো মানুষকে যোগব্যায়াম সম্পর্কে সচেতন করা এবং সুস্থ জীবনশৈলী অনুসরণে অনুপ্রাণিত করা।
দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন করা হবে। ওই দিনই বিকেল সাড়ে ৫টার পর গঙ্গা বক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ড্রোনের মাধ্যমে যোগ সম্পর্কিত আকর্ষণীয় দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। অংশগ্রহণকারীদের সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে যেতে হবে, যার পর আয়ুষ মন্ত্রকের নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী যোগাভ্যাস শুরু হবে।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যোগব্যায়ামের প্রতি সাধারণ মানুষের উৎসাহ ক্রমাগত বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরকারি স্তরে এত বড় পরিসরে এই আয়োজনে অংশ নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যোগ দিবস আজ সারা বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং ১৭৫টিরও বেশি দেশ এর গুরুত্বকে মান্যতা দিয়েছে।
এই সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় আয়ুষ প্রতিমন্ত্রী প্রতাপরাও যাদবও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, যোগ যখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠে, তখন তা কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকেও শক্তিশালী করে তোলে। তিনি সমস্ত নাগরিকদের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এই কর্মসূচিগুলোকে সফল করে তোলার আহ্বান জানান।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি