
ঝাড়গ্রাম, ১৮ জুন (হি.স.) : ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুরে বৃহস্পতিবার নিজের বাড়ি থেকে ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশের এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টরের (এএসআই) দেহ উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম অর্জুন সিং (৫৪)। তিনি সাঁকরাইল থানায় কর্মরত ছিলেন। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। তাঁর বাড়ি গোপীবল্লভপুরের পাঁচকাহানিয়া গ্রামে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পাশের একটি ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয়। বহুবার ডাকাডাকির পরও সাড়া না মেলায় দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করলে অর্জুন সিংকে অচৈতন্য অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে গোপীবল্লভপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পর পরিবারের সামনে ফিরে এসেছে তিন বছর আগের এক বেদনাদায়ক স্মৃতি। পরিবারের দাবি, প্রায় তিন বছর আগে অর্জুন সিংয়ের স্ত্রী সুমিতা সিংয়েরও অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
মৃতের মেয়ে সোনালী সিং জানান, মায়ের মৃত্যুর ধাক্কা কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছিলেন তাঁর বাবা। বুধবারও তিনি পরিবারের সঙ্গে ঝাড়গ্রামে আদালতের একটি কাজে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে ছেলের জন্য নতুন পোশাক কিনেছিলেন। তাঁর আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়নি। তাই বৃহস্পতিবার সকালের ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা হতবাক।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন দাদার সঙ্গে যৌথ পরিবারেই বসবাস করতেন অর্জুন সিং। তাঁর এক মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং ছেলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। দীর্ঘদিন সাঁকরাইল সিআই অফিসে দায়িত্ব পালনের পর কয়েক মাস আগে তাঁকে সাঁকরাইল থানায় বদলি করা হয়। সম্প্রতি ঝাড়গ্রাম আদালতে তাঁর নতুন কর্মস্থল নির্ধারিত হয়েছিল এবং শীঘ্রই সেখানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।
পরিবারের দাবি, স্ত্রীর মৃত্যুর মানসিক আঘাত তিনি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। যদিও পরিচিতদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন।
ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার মানব সিংলা জানান, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কিছু সমস্যার বিষয় সামনে এসেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো