
আইজল, ১৮ জুন (হি.স.) : নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার মিজোরামের একমাত্র রাজ্যসভা আসনের জন্য ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রাজ্য বিধানসভা ভবনে শুরু হয়েছে ভোটগণনা।
রাজ্যসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোরাম পিপলস মুভমেন্ট (জেডপিএম)-এর মুখপাত্র কে লালতলুয়াংকিমাকে প্রার্থী করেছে দল। অন্যদিকে বিরোধী মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এমএনএফ) আইনজীবী ও লেখিকা জোথানসাঙ্গি হামারকে প্রার্থী করেছে।
নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে জানা গেছে, মোট ৩৬ জন বিধায়ক ভোটদান করেছেন। জেডপিএম-এর ২৭ জন বিধায়কের মধ্যে ২৬ জন এবং এমএনএফ-এর ১০ জনের সবাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তবে তুইচাং কেন্দ্রের জেডপিএম বিধায়ক ডব্লিউ সুয়ানাওমা অসুস্থতার কারণে ভোট দিতে পারেননি।
ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং কংগ্রেস আজকের নির্বাচনে ভোটদান থেকে বিরত ছিল। কংগ্রেস বিধায়ক সি এনগুনলিয়ানচুঙ্গা জানান, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে তিনি ভোটগ্রহণে অংশ নেননি। একইসঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বও নিশ্চিত করেছে, দলের দুই বিধায়ক ভোটদানে অংশ নেননি।
বিধানসভা সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব লালথাংমাউইয়া জানান, আজ সকাল ৯.০০টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত বিকাল ৪.০০টার অনেক আগে সকাল ১১টার মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে ভোটদান পর্ব।
মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা প্রথম বিধায়ক হিসেবে ভোট দেন। তিনি ক্ষমতাসীন জেডপিএম-এর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগকে খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, জেডপিএম-এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে এবং রাজ্যসভা নির্বাচনে ক্রস-ভোটিং হতে পারে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এটি জনসাধারণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোর জন্য বিরোধীদের এক প্রচেষ্টা মাত্র। আমাদের বিধায়করা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন এবং কোনও ধরনের ক্রস-ভোটিং হবে না।
অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা ও এমএনএফ বিধায়ক লালসান্দামা রালতে দাবি করেন, ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জেডপিএম-এর কয়েকজন বিধায়ক এমএনএফ প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে পারেন।
সম্ভাব্য ক্রস-ভোটিং নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনার দরুন এই নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ৪০ সদস্যের মিজোরাম বিধানসভায় জেডপিএম-এর সংখ্যাগরিষ্ঠতা যথেষ্ট শক্তিশালী। বর্তমানে জেডপিএম-এর ২৭ জন বিধায়ক রয়েছেন। এছাড়া, এমএনএফ-এর ১০, বিজেপির ২ এবং কংগ্রেসের ১ জন বিধায়ক রয়েছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস