
আগরতলা, ২ জুন (হি.স.) : ত্রিপুরার বিভিন্ন রেশন দোকানে খাদ্যসামগ্রীর ঘাটতির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে ত্রিপুরা ন্যায্য মূল্যের দোকান পরিচালক সমিতির সদর এএমসি কমিটি। মঙ্গলবার আগরতলায় আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সমিতির কর্মকর্তারা জানান, রেশন সামগ্রীর সরবরাহে কোনও সামগ্রিক সংকট নেই। বরং কিছু রেশন ডিলারের গাফিলতি ও সময়মতো প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করার কারণেই নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সহ-সভাপতি প্রদীপ মজুমদার, সহ-সম্পাদক কুমার দেব এবং কোষাধ্যক্ষ অনিশ দে। তাঁরা বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে রেশন দোকানে চাল, ডাল ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী না পাওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাজ্যের অধিকাংশ ন্যায্য মূল্যের দোকানে নিয়মিতভাবে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে এবং কোথাও কোনও বড় ধরনের ঘাটতি নেই।
সমিতির কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু রেশন ডিলার নির্ধারিত সময়ে চালানের অর্থ জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দোকানগুলিতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে ওইসব এলাকার ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে এবং অনেকেই মনে করছেন যে রেশন ব্যবস্থায় সামগ্রিক সংকট দেখা দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এটি বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার ফল এবং এর জন্য গোটা রেশন ব্যবস্থাকে দায়ী করা ঠিক নয় বলে তাঁরা দাবি করেন।
সমিতির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, রাজ্য সরকার গণবন্টন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করে তুলতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ, পরিবহন এবং বণ্টন প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট দফতর নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রেশন ব্যবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছে। তাঁদের দাবি, এই ধরনের প্রচারের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে প্রকৃত তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানান তাঁরা।
সমিতির কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন রেশন দোকানে পর্যাপ্ত পরিমাণে চাল, ডাল ও চিনি মজুত রয়েছে। ভোক্তাদের নির্ধারিত সময়ে রেশন সামগ্রী প্রদান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করারও আহ্বান জানান তাঁরা।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে রেশন ডিলারদের সময়মতো আর্থিক ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহে কোনও ধরনের বিলম্ব না ঘটে এবং সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে সরকারি খাদ্য সহায়তার সুবিধা পেতে পারেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ