
কলকাতা, ২২ জুন (হি. স.): সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে দলের সাংসদ, বিধায়ক, নেতা ও কর্মীদের ওপর কথিত হিংসাত্মক হামলা, প্রকাশ্য হেনস্থা এবং ডিম ছোড়ার ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছে। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর দাবি করে দলের পক্ষ থেকে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
সোমবার এই বিষয়টি প্রবীণ আইনজীবী শীর্ষেন্য বন্দ্যোপাধ্যায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টিগোচর করেন। আইনজীবী আদালতকে জানান যে, মামলাটি গত শুক্রবার দায়ের করা হয়েছিল, কিন্তু সেটির শুনানি করা সম্ভব হয়নি। তিনি বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানান।
ডিভিশন বেঞ্চ এই আবেদনটি বিবেচনা করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে মামলাটির শুনানি করতে সম্মত হয়েছে।
আবেদনে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং মদন মিত্রের ওপর ডিম ছোড়া এবং দলীয় কর্মীদের সাথে হিংসাত্মক আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দায়ের করা এই আবেদনে বলা হয়েছে যে, দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে প্রকাশ্য হিংসা, দলবদ্ধ হামলা, মানহানিকর প্রচার এবং প্রকাশ্য হেনস্থার মতো ঘটনা অত্যন্ত ভয়াবহ, উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক। আবেদনে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, এই সমস্ত ঘটনার মাধ্যমে দলের নেতা ও কর্মীদের রাজনৈতিকভাবে নিশানা করা হচ্ছে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, আইনের শাসন, সাংবিধানিক স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সংবিধানের ৩ নম্বর পার্টে (অধ্যায়ে) প্রদত্ত মৌলিক অধিকার রক্ষার স্বার্থে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দলটির অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিংসা, চাপ সৃষ্টি ও হেনস্থার কারণে এই অধিকারগুলি গুরুতরভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে যে, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও উদ্বেগজনক এবং দলের কর্মী ও সহযোগীরা নিরাপদ নন।
আবেদন অনুযায়ী, দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বারবার প্রকাশ্য হেনস্থা এবং শারীরিক হিংসার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, উত্তেজিত জনতার দ্বারা এই সমস্ত ব্যক্তিদের ওপর ডিম, কালি এবং পাথর ছোড়া হয়েছে।
দলের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, বেশ কিছু গুরুতর ঘটনায় তাদের নেতা ও কর্মীদের বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে, মারধর করা হয়েছে এবং প্রকাশ্যেই অপমান করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে যে, কিছু মানুষকে জোরপূর্বক ঘোরানো হয়েছে এবং উগ্র জনতা নিজেরাই বিচারক, জুরি ও শাস্তিদাতা সেজে তাঁদের ওপর গুরুতর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি