

গুয়াহাটি, ২২ জুন (হি.স.) : গুয়াহাটির নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত শক্তিপীঠ কামাখ্যা মন্দির চত্বরে আজ সোমবার আধ্যাত্মিক আবহে অম্বুবাচি মহাযোগের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়ে গেছে। অসমের পর্যটন মন্ত্রী অজন্তা নেওগ পাণ্ডুপোর্টে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অম্বুবাচি মহাযোগ উপলক্ষ্যে মেলার উদ্বোধন করেছেন।
মেলার উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠনে মন্ত্রী অজন্তা জানান, আজ ২২ জুন রাত ৯টা ৮ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে ‘প্রবৃত্তি’ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কামাখ্যা মন্দিরের গর্ভগৃহের প্রধান দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর পর ২৬ জুন ‘নিবৃত্তি’র পর বিশেষ পূজা-অর্চনা সম্পন্ন করে ভক্তদের দর্শনের জন্য মন্দিরের দরজা পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
অম্বুবাচি মেলায় আগত ভক্ত, সাধু-সন্ন্যাসী, তীর্থযাত্রী এবং দেশ-বিদেশে পর্যটকদের স্বাগত জানিয়ে শুভেচ্ছা জানান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে অজন্তা নেওগ বলেন, ‘অম্বুবাচি মেলা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি অসমের সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং অতিথিপরায়ণতার প্রতীক।’ তিনি আরও বলেন, প্রাচীনকাল থেকে চলমান এই বার্ষিক মেলার মাধ্যমে অসমের পর্যটন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে।
মন্ত্রী জানান, ২০১৩ সাল থেকে পর্যটন বিভাগ রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় অম্বুবাচি মেলার আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই মেলায় যোগ দেন। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ ভক্ত মেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। চলতি বছর আট লক্ষের বেশি ভক্ত-তীর্থযাত্রীর আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে, বলেন তিনি।
ভক্ত ও পর্যটকদের সুবিধার্থে রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন দফতরের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং তথ্য সহায়তা কেন্দ্রগুলিকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে সকলেই নির্বিঘ্নে মেলায় অংশ নিতে পারেন।
মন্ত্রী মেলার সফল আয়োজনে সহযোগিতাকারী বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও বেসরকারি সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে অতিথি সেবার মাধ্যমে এই মহোৎসবকে সফল করে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিধায়ক বিজয় গুপ্তা, অসম পর্যটন উন্নয়ন নিগমের সভাপতি ঋতুপর্ণ বরুয়া, সহ-সভাপতি দিলীপ দাস, পর্যটন বিভাগের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, কামাখ্যা মন্দির পরিচালন সমিতির প্রতিনিধিগণ, সাধু-সন্ত এবং বিপুল সংখ্যক ভক্ত উপস্থিত ছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস