
ঝাড়গ্রাম, ২২ জুন (হি.স.) : ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ প্রকাশ্যে এল। জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্ময়ী মারান্ডির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিয়েছেন তৃণমূলেরই ১৩ জন সদস্য। ১৯ সদস্যের জেলা পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের এই পদক্ষেপ ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সোমবার অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিতে বিক্ষুব্ধ সদস্যরা ঝাড়গ্রামের জেলাশাসকের দফতরে যান। সেখানে তাঁরা জানতে পারেন, আইন অনুযায়ী জেলা পরিষদের সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষমতা জেলাশাসকের নয়। এই প্রস্তাব মেদিনীপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কাছেই জমা দিতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে তাঁরা ফিরে যান। মঙ্গলবার বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
জেলা পরিষদ সূত্রে খবর, রবিবার ঝাড়গ্রাম শহরের একটি অতিথিশালায় ১৩ জন সদস্য বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকেই সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার বিষয়ে ঐকমত্য হয় এবং পরে সদস্যরা একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। ওই চিঠিতে সভাধিপতির নেতৃত্বের ধরন ও প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে অসন্তোষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নিশীথ মাহাতো বলেন, প্রথমে বিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ছিল না। আইন মেনেই মঙ্গলবার বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সভাধিপতি চিন্ময়ী মারান্ডি দাবি করেন, তিনি স্বচ্ছতার সঙ্গে উন্নয়নমূলক কাজ ও মানুষের পরিষেবা দিয়ে এসেছেন। দলেরই একাংশ কেন তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে চাইছেন, সেই প্রশ্নের উত্তর তাঁরাই দিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনা প্রসঙ্গে ঝাড়গ্রামের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ বলেন, জেলা পরিষদে দুর্নীতির অভিযোগ থেকেই একাংশ সদস্যের এই অবস্থান তৈরি হয়েছে বলে তাঁর ধারণা। তবে তিনি এটিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেই উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, অনাস্থা প্রস্তাব সফল হলে ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের নেতৃত্ব এবং ক্ষমতার সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটতে পারে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো