
ঝাড়গ্রাম, ২২ জুন (হি.স.) : রাজ্য সরকারের প্রথম বাজেটে ঝাড়গ্রাম জেলার জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল একটি আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব। শিক্ষা মহলের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়িত হলে জঙ্গলমহলের উচ্চশিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
ঝাড়গ্রাম জেলার প্রায় ২৮ শতাংশ বাসিন্দাই আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত। এর আগে জেলায় সাধুরাম চাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠলেও, এবার আদিবাসী সমাজের শিক্ষা, ভাষা, সংস্কৃতি ও গবেষণার বিকাশকে কেন্দ্র করে পৃথক একটি আধুনিক ট্রাইবাল ইউনিভার্সিটি স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাজেটে জানানো হয়েছে, প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে তোলা হবে। চলতি অর্থবর্ষে প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
এছাড়াও বাজেটে গোপীবল্লভপুর-১ ও নয়াগ্রাম ব্লক নিয়ে নতুন গোপীবল্লভপুর মহকুমা গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে। কুড়মি সম্প্রদায়ের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষ্যে কুড়মি অ্যাকাডেমি বোর্ডের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
পর্যটন ও বনভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশে ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্ককে কেন্দ্র করে ১৬০ একর জমিতে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি টাইগার সাফারি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আম চাষের প্রসারে বিশেষ সহায়তা, কেন্দ্রের সহযোগিতায় জীবিকা উন্নয়নমূলক সামাজিক প্রকল্প এবং শবর সম্প্রদায়ের জন্য পুষ্টি কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগের কথাও বাজেটে উল্লেখ রয়েছে।
শিক্ষা পরিকাঠামো সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি নবোদয় বিদ্যালয় এবং একটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণাও করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ঝাড়গ্রামের সাংসদ কালীপদ সোরেন গত বছর সংসদে আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় ও নবোদয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছিলেন। বাজেট ঘোষণার পর তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জেলার উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে। তাঁর মতে, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টি শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীর আদলে গড়ে উঠলে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আদিবাসী ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক অনন্য কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।
অন্যদিকে, ভারত জাকাত সান্তাড় পাঠুয়া গাঁওতার রাজ্য কমিটির সাংস্কৃতিক বিভাগের সম্পাদক সরগ হেমরম বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই একটি সাঁওতালি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তাঁরা। বাজেটে এই ঘোষণা হওয়ায় সংগঠনের পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তাঁর মতে, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাই নয়, সেখানে উন্নত পরিকাঠামো, পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো