
কলকাতা, ২২ জুন ( হি. স.) : রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন, 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস' উদযাপন এবং নাগরিকতা সংশোধন আইন (সিএএ) কার্যকর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের আপামর জনসাধারণের পক্ষ থেকে পাঠানো এই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বেই পশ্চিমবঙ্গে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অব্যবস্থা ও কুশাসনের অন্ধকার কাটিয়ে রাজ্য এখন উন্নয়ন, শান্তি এবং আত্মসম্মানের পথে এগিয়ে চলেছে।
চিঠিতে ২০ জুন দিনটিকে 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস' হিসেবে পালন করার বিষয়টিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অনবদ্য অবদানের কারণেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে টিকে রয়েছে। দেশভাগের সময় বাঙালি হিন্দু এবং পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব রক্ষায় তাঁর সিদ্ধান্তমূলক লড়াইয়ের ইতিহাসকে এই দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয়। এর পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর থেকে অনুচ্ছেদ ৩৭০ ধারা বিলোপের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী জানান, ড. মুখোপাধ্যায়ের ‘এক বিধান, এক নিশান, এক প্রধান’-এর স্বপ্নকে ২০১৯ সালে বাস্তবায়িত করেছে মোদী সরকার।
নাগরিকত্ব সংশোধন আইন বা সিএএ কার্যকর করার ঐতিহাসিক পদক্ষেপের জন্যও প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া লাখো মানুষ এই আইনের ফলে নিজেদের নাগরিকত্বের অধিকার ফিরে পেয়েছেন। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম এবং পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় হিংসার কারণে যে বিপুল সংখ্যক হিন্দু বাঙালি পরিবারকে ভিটেমাটি ছেড়ে এ রাজ্যে চলে আসতে হয়েছিল, এই আইন তাঁদের দীর্ঘদিনের পরিচয় সংকট দূর করে সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব দিয়েছে। অবশেষে এই পীড়িত পরিবারগুলি ন্যায়বিচার পেল বলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ সফর রাজ্যের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী আত্মপ্রকাশ করেন যে, তাঁর এই পথপ্রদর্শনেই রাজ্য শিল্প, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও অর্থনৈতিক প্রগতির ক্ষেত্রে দ্রুত দেশের অগ্রগণ্য রাজ্যগুলির তালিকায় স্থান করে নেবে।
ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী এবং রাজ্যে জাতীয়তাবাদী সরকার গঠনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কামনা করে শুভেন্দু অধিকারী আস্থা প্রকাশ করেন যে, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ প্রয়াসে আগামী দিনে ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্ন নিশ্চিতভাবেই বাস্তবায়িত হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি