শিলিগুড়ি পুরসভায় বোর্ড গঠন ঘিরে তীব্র কোন্দল, দুই ভাগে বিভক্ত তৃণমূল
শিলিগুড়ি, ২২ জুন (হি. স.): শিলিগুড়ি পুরসভাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকট ক্রমশ গভীর হচ্ছে। মেয়র গৌতম দেবের পদত্যাগের পর নতুন বোর্ড গঠন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ তীব্র মতবিরোধ এবার প্রকাশ্য চলে এল। সোমবার ছিল রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফত
শিলিগুড়ি পুরসভায় বোর্ড গঠন ঘিরে তীব্র কোন্দল, দুই ভাগে বিভক্ত তৃণমূল


শিলিগুড়ি, ২২ জুন (হি. স.): শিলিগুড়ি পুরসভাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকট ক্রমশ গভীর হচ্ছে। মেয়র গৌতম দেবের পদত্যাগের পর নতুন বোর্ড গঠন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ তীব্র মতবিরোধ এবার প্রকাশ্য চলে এল। সোমবার ছিল রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতর কর্তৃক নির্ধারিত বোর্ড গঠনের সময়সীমার শেষ দিন। কিন্তু দীর্ঘ বৈঠকের পরও নতুন মেয়রের নামের ক্ষেত্রে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি তৃণমূলের কাউন্সিলররা। শেষ পর্যন্ত ২৪ জন কাউন্সিলরের স্বাক্ষর সংবলিত একটি চিঠি পুর কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া হয়, যেখানে শুধুমাত্র দ্রুত বোর্ড গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

তবে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে দলের ভেতরের ফাটল আরও স্পষ্ট হয়েছে। বৈঠক চলাকালীনই ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার, শম্পা নন্দী এবং আলোক ভক্তের মতো প্রভাবশালী নেতারা ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান এবং ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেন। এরপরই ক্ষুব্ধ তৃণমূলের একটি বড় অংশ আলাদাভাবে বৈঠকে বসে রঞ্জন সরকারকে নেতা এবং সঞ্জয় পাঠককে উপনেতা হিসেবে নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সমান্তরাল সিদ্ধান্তের ফলে দলের ভেতরের সংঘাত এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে।

পুরসভার এই চরম ডামাডোলে ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত হয়ে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর ইতিমধ্যেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, শিলিগুড়ি পুরসভায় তৃণমূলের মোট ৩৭ জন কাউন্সিলরের মধ্যে চারজন আগেই পদত্যাগ করেছেন। তার ওপর আজকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে গৌতম দেব এবং রঞ্জন শীলশর্মার মতো হেভিওয়েট কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতি দলের অন্দরে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

পুরসভার এই পরিস্থিতি নিয়ে দার্জিলিং জেলা তৃণমূল সভাপতি কুন্তল রায় জানান, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মেনেই বোর্ড গঠনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং খুব দ্রুতই নতুন মেয়র ও অন্যান্য পদাধিকারীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। তবে ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকারের সই না করা সংক্রান্ত অস্বস্তিকর প্রশ্নটি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান। অন্যদিকে, এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। বিজেপি নেতা অমিত জৈন অভিযোগ করেছেন, তৃণমূলের এই ক্ষমতার অলিন্দে লড়াইয়ের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। একই সঙ্গে পুর কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে কাউন্সিলরদের স্বাক্ষরগুলি জাল হতে পারে বলেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। সব মিলিয়ে পুরসভার এই নজিরবিহীন টানাপোড়েনে শিলিগুড়ি শহরের প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং নাগরিক পরিষেবা লাটে ওঠার জোগাড় হওয়ায় উদ্বেগ ছড়াচ্ছে শহরবাসীর মনে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande