
কলকাতা, ২৩ জুন (হি. স.) : যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান চলাকালীন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মামলায় পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস আপাতত স্বস্তি পেলেন। কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার মেয়াদ এখনই শেষ হচ্ছে না। মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই সুরক্ষা নির্দেশে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে।
অরূপ বিশ্বাসের পাওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার বিরুদ্ধে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত শতদ্রু দত্ত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানিয়েছিলেন। শুনানির সময় শতদ্রু দত্তের আইনজীবী যুক্তি দেন যে, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি আদালতকে জানান, ঘটনার পর শুধুমাত্র একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অরূপ বিশ্বাসের পক্ষে আইনজীবী কিশোর দত্ত শতদ্রু দত্তের এই আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তিনি সওয়াল করেন, আদালত যখন ইতিমধ্যেই একটি মামলায় আদেশ দিয়ে দিয়েছে, তখন তদন্তের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করার অধিকার অভিযোগকারীর থাকে না। এই যুক্তিতে তিনি আবেদনটি খারিজ করার দাবি জানান।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চান যে অরূপ বিশ্বাস তদন্তে সহযোগিতা করছেন কি না, তিনি আগাম জামিনের আবেদন করেছেন কি না এবং তদন্তকারী অফিসারের সামনে হাজিরা দিচ্ছেন কি না। রাজ্যের আইনজীবী আদালতকে জানান যে, প্রাক্তন মন্ত্রী তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন এবং তদন্তকারী অফিসারের সামনে হাজিরাও দিচ্ছেন।
রাজ্য সরকারের বক্তব্য শোনার পর ডিভিশন বেঞ্চ মামলার শুনানি স্থগিত করে। আগামী ২ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। অন্য দিকে, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী অরূপ বিশ্বাসের আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সুরক্ষা রয়েছে। ফলে আগামী ২ জুলাই পর্যন্ত এই মামলায় তাঁর স্বস্তি বজায় থাকছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বর মাসে আর্জেন্টিনার ফুটবলার লিওনেল মেসি কলকাতায় এসেছিলেন। এই অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন শতদ্রু দত্ত, এবং সেই সময় অরূপ বিশ্বাস রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ছিলেন। মেসির সফরকে কেন্দ্র করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা মেসির অত্যন্ত কাছাকাছি চলে যান, যার ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয় এবং মেসিকে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই মাঠ ছাড়তে হয়েছিল।
এই ঘটনার পর শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যদিও তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। পরবর্তীতে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়। গত ১০ জুন অরূপ বিশ্বাসকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়ার সময় হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ মন্তব্য করেছিল যে, বিপুল সংখ্যক দর্শক টিকিট কিনে মেসিকে দেখতে এসেছিলেন, কিন্তু নিরাপত্তায় গলদের কারণে মেসিকে সময়ের আগেই মাঠ ছাড়তে হয়। আদালত আরও বলেছিল যে, দেশের অন্য তিনটি শহরে এই ধরনের অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলেও, কলকাতার এই ঘটনার কারণে শহরের সুনামে আঘাত লেগেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি