
গুয়াহাটি, ২৩ জুন (হি.স.) : ‘পূবের মহাকুম্ভ’ হিসেবে পরিচিত পবিত্র অম্বুবাচি ২০২৬ উপলক্ষ্যে সমগ্র সনাতনী হিন্দু সমাজকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র অসম প্রদেশ সভাপতি দিলীপ শইকিয়া।
এক শুভেচ্ছাবার্তায় শইকিয়া বলেন, মা কামাখ্যার আশীর্বাদে অসম তথা সমগ্র দেশে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক চেতনার ধারা অব্যাহত থাকুক। তিনি বলেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার সরকার অসমের আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী পরম্পরাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অম্বুবাচি মেলাকে বিশ্বমানের ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।
শইকিয়া বলেন, ‘পূবের মহাকুম্ভ’ হিসেবে বিশ্বখ্যাত ঐতিহাসিক অম্বুবাচি মেলা ২০২৬ সোমবার রাত থেকে কামরূপের নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত মা কামাখ্যা ধামে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। অসম সরকার এবং কামাখ্যা দেবালয় পরিচালন সমিতির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত চার দিনের এই মহোৎসব দেবী কামাখ্যার বার্ষিক ঋতুচক্র এবং সৃষ্টিধর্মিতার মহান তাৎপর্য বহন করে।
বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, অত্যাধুনিক ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং শক্তিশালী পরিকাঠামোর জন্য এবারের অম্বুবাচি মেলায় ভক্ত, সাধু-সন্ন্যাসী ও তীর্থযাত্রীদের সমাগম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের অনুমান, কমপক্ষে আট লক্ষ ভক্তের সমাগম হতে পারে মেলায়। এই বিপুল সমাগম মা কামাখ্যা ধামের অম্বুবাচি মেলাকে নতুন মাত্রা দেবে, বলেন দিলীপ শইকিয়া।
অসম প্রদেশ সভাপতি বলেন, অম্বুবাচি উপলক্ষ্যে কামাখ্যাধামে অভূতপূর্ব সমাগম অসমের আধ্যাত্মিক পর্যটন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিশ্বমানের পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সাফল্যকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন অসম সরকারের উন্নয়নমুখী নীতি, উন্নত রাস্তাঘাট, সুশৃঙ্খল নগর ব্যবস্থাপনা, শক্তিশালী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের ফলেই আজকের অসম দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় আধ্যাত্মিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার দূরদর্শী নেতৃত্বে অসমের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় পরম্পরাকে বিশ্ব দরবারে আরও মর্যাদা দেওয়ার যে নিরন্তর প্রচেষ্টা চলছে, অম্বুবাচি মেলার এই বিশাল সমাগম তারই এক জীবন্ত উদাহরণ।
অসম সরকার ভক্তদের সুবিধা, নিরাপত্তা এবং সুশৃঙ্খল পরিচালনার জন্য ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অসম পর্যটন বিভাগ ৪.৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। পুরনো জেল চত্বর, বড়িপাড়া খেলার মাঠ এবং কামাখ্যা রেলওয়ে স্টেশনে বড় পরিসরে অস্থায়ী আবাসন-শিবির স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ৫০ হাজারেরও বেশি ভক্ত থাকতে পারবেন।
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার স্পষ্ট নির্দেশে এবারের মেলায় কোনও ধরনের ভিআইপি এবং ভিভিআইপি সংস্কৃতির স্থান নেই। সকল ভক্ত সমান অধিকার নিয়ে সাধারণ সারির মাধ্যমে দর্শনের সুযোগ পাবেন, যা সরকারের সমতা ও স্বচ্ছতার নীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্যের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্দির ট্রাস্ট ও প্রশাসন ২০০-এর বেশি স্থায়ী স্বচ্ছতা কর্মীর পাশাপাশি ১০০-এর বেশি অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করেছে। নীলাচলের বিভিন্ন অংশে জৈব শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে সকল ভক্ত নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দর্শন সম্পন্ন করতে পারেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস