অসমে চা নিগম কর্মীদের জন্য ৯.৭৫ কোটি টাকার ভিআরএস অনুমোদন সহ বেশ কয়েকটি প্ৰস্তাবে সিলমোহর মন্ত্রিসভার
গুয়াহাটি, ২৩ জুন (হি.স.) : অসমে চা নিগমের কর্মচারীদের জন্য ৯.৭৫ কোটি টাকার ‘স্বেচ্ছাবসর প্রকল্প’ (ভিআরএস), হোমস্টেগুলিকে নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনে পরিচালনা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ইত্যাদি প্ৰস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্ৰিসভা। আজ মঙ্গলব
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা


গুয়াহাটি, ২৩ জুন (হি.স.) : অসমে চা নিগমের কর্মচারীদের জন্য ৯.৭৫ কোটি টাকার ‘স্বেচ্ছাবসর প্রকল্প’ (ভিআরএস), হোমস্টেগুলিকে নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনে পরিচালনা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ইত্যাদি প্ৰস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্ৰিসভা।

আজ মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বরুয়া, রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি দফতরের মন্ত্রী কেশব মহন্ত, রূপান্তর ও উন্নয়ন, শ্রম কল্যাণ এবং চা-জনগোষ্ঠী ও আদিবাসী কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী রামেশ্বর তেলিদের সঙ্গে নিয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ক্যবিনেট বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের নির্যাস দিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে হোমস্টে নিবন্ধন ও পরিচালনার জন্য নতুন নিয়মাবলি অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধনের যোগ্য হতে হলে একটি হোমস্টেতে ন্যূনতম আটটি কক্ষ থাকতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা বলেন, নতুন নির্দেশিকাগুলির লক্ষ্য হলো হোমস্টে ক্ষেত্রকে আরও সুশৃঙ্খল করা এবং রাজ্যের পর্যটন পরিকাঠামোকে উন্নত করা। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারী হোমস্টে পরিচালকদের কমপক্ষে আটটি কক্ষ বজায় রাখতে হবে। এর ফলে এই খণ্ডে আরও বেশি মানসম্মত পরিষেবা নিশ্চিত হবে এবং পর্যটকদের জন্য আবাসন সুবিধাও উন্নত হবে বলে আশা করছে সরকার।

হিমন্তবিশ্ব শর্মা আরও জানান, অসমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জমির প্রয়োজনীয়তায় উল্লেখযোগ্য শিথিলতা আনা হয়েছে। সংশোধিত নীতি অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকায় এখন ন্যূনতম ৩৫ বিঘা জমিতে এবং শহরাঞ্চলে ন্যূনতম ২১ বিঘা জমিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা যাবে।

ড. শর্মা বলেন, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে আরও বেশি বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা এবং রাজ্যজুড়ে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা। সংশোধিত জমি-সংক্রান্ত এই নিয়মের ফলে আরও বেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। ফলে আরও শক্তিশালী হবে অসমের শিক্ষাগত পরিকাঠামো।

রাজ্য সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্তগুলি মন্ত্রিসভার গৃহীত হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, পর্যটন খণ্ডের উন্নয়ন, শিক্ষাব্যবস্থার পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।

মুখ্যমন্ত্ৰী জানান, আগামী ৪ আগস্ট থেকে গুয়াহাটি থেকে দুবাই এবং গুয়াহাটি থেকে আবুধাবির উদ্দেশ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করবে এয়ার ইন্ডিয়া। এই পদক্ষেপ অসমের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে, বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভ্রমণ সংক্রান্ত পরামর্শ শিথিল করার বিষয়টি অসমের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তারা এখন অসমকে পর্যটন ও নানাবিধ সুযোগ-সুবিধার একটি কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব বলেন, এয়ার ইন্ডিয়ার পরিচালনায় নন-স্টপ এই বিমান পরিষেবা অসমকে বিশ্বের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করবে এবং গুয়াহাটিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত ও ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, নতুন রুট চালু হলে গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সরাসরি চারটি দেশ যথাক্রমে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (ইউএই), থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং ভুটানের সঙ্গে যুক্ত হবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্য সরকার এখন ভিয়েতনামের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের জন্য কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আমার পরবর্তী লক্ষ্য হলো ভিয়েতনামের সঙ্গে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হওয়া এবং শীঘ্রই ভিয়েতনামের সাথেও তা শুরু হলে গুয়াহাটি অবশেষে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ মানচিত্রে নিজের স্থান করে নিচ্ছে।

প্ৰসঙ্গত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলি অসম ভ্রমণ সংক্রান্ত পূর্বের সতর্কতামূলক নির্দেশিকা সংশোধন করে নাগরিকদের জন্য আরোপিত নিষেধাজ্ঞামূলক পরামর্শ তুলে নিয়েছে। ২০ জুন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা এই সিদ্ধান্তকে ‘উৎসাহজনক খবর’ বলে স্বাগত জানিয়ে একে অসমের প্রতি আস্থার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকদের সাম্প্রতিক অসম সফরের পর এই পরিবর্তন এসেছে, যা অসম ও ইউরোপের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করতে সাহায্য করবে।

হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেন, এই সিদ্ধান্ত পর্যটন, ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং অসম ও ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করবে। এই উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য তিনি ভারতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত হার্ভে ডেলফিন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এছাড়া নিজের কৃষিজমিতে ক্ষুদ্র শিল্প বা ক্ষুদ্র উদ্যোগ স্থাপন করতে আগ্রহীরা একটি নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমতি গ্রহণ করতে পারবেন। একইভাবে, সোলার প্যানেল স্থাপনের ক্ষেত্রেও পোর্টালের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় অনুমতি পাওয়া যাবে বলে আজ মন্ত্রিসভা এ সংক্রান্ত আইন বিধানসভায় উপস্থাপনের জন্য অনুমোদন প্রদান করেছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande