ভবানীপুর নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মমতার আবেদনের শুনানি, ভোট সামগ্রী সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
কলকাতা, ২৩ জুন (হি. স.) : ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী আবেদনের ওপর মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে শুনানি হয়। শুনানির শুরুতে বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত স্পষ্ট করে দেন যে, তাঁর বড় ভাই ভার
কলকাতা হাইকোর্ট


কলকাতা, ২৩ জুন (হি. স.) : ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী আবেদনের ওপর মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে শুনানি হয়। শুনানির শুরুতে বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত স্পষ্ট করে দেন যে, তাঁর বড় ভাই ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় মুখপাত্র। তিনি আবেদনকারী পক্ষের কাছে জানতে চান যে, এই বিষয়ে মামলাটির শুনানিতে তাঁদের কোনও আপত্তি রয়েছে কিনা। মমতার পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিচারপতির ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে বলেন যে, তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। এরপর আদালত মামলার শুনানি শুরু করে।

বিচারপতি কান্ত বলেন যে, মামলার গুণাগুণ বিচার করার আগে এই তথ্যটি জানানো তাঁর কর্তব্য, যাতে ভবিষ্যতে এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে কোনও বিতর্ক তৈরি না হয়। এর জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন যে, বিচারব্যবস্থার প্রতি তাঁদের পূর্ণ আস্থা ও সম্মান রয়েছে এবং বিচারপতির প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশের কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

শুনানি চলাকালীন মমতার পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে গণনার দিন ব্যাপক আকারে অনিয়ম হয়েছিল। আবেদনকারী পক্ষের দাবি, গণনা এজেন্টদের মারধর করে গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এমনও অভিযোগ করা হয়েছে যে, তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও গণনা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনের উল্লেখ করে বলেন যে, সেই নির্বাচনে যিনি রিটার্নিং অফিসার ছিলেন, তাঁকেই এবার ভবানীপুরেও রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, নন্দীগ্রাম নির্বাচনেও অনিয়ম হয়েছিল এবং সেই সংক্রান্ত একটি নির্বাচনী আবেদনও দায়ের করা হয়েছে।

মমতার আইনজীবী রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং বর্তমান মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়ালের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই তাঁকে মুখ্য সচিব নিযুক্ত করা হয় এবং এক সময়ে তিনি দুটি দায়িত্বও সামলেছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তের উল্লেখ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন যে, বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন নির্বাচন কমিশন তাঁকে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করেছিল এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াতেও তিনি পর্যবেক্ষক ছিলেন।

তাঁর দাবি, সুব্রত গুপ্তের পর্যবেক্ষণে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ৪৪ হাজারেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল, অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় ১৩ হাজার ভোটে পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। আবেদনকারী পক্ষ আরও জানায় যে, নির্বাচন চলাকালীন অন্যান্য রাজ্য থেকেও পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল।

মমতার পক্ষ থেকে আদালতের কাছে মামলাটির দ্রুত শুনানি করে রায় দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি কান্ত গণনা কেন্দ্রের সমস্ত ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ, ব্যালট ইউনিট, কন্ট্রোল ইউনিট এবং ভোটার ভেরিফায়েড পেপার অডিট ট্রেইল (ভিভিপ্যাট) মেশিন সহ নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত সামগ্রী সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, কোনও সামগ্রী নষ্ট করা যাবে না।মামলাটির পরবর্তী শুনানি তিন সপ্তাহ পরে হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande