
জলপাইগুড়ি, ২৩ জুন (হি. স.) : ময়নাগুড়ির কাছে এক ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ ছয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিহতদের পরিবারগুলির জন্য আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করলেও, এই দুর্ঘটনা পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে যখন রাজ্যে এক নতুন উন্নয়নের রোডম্যাপ পেশ করার প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই সরকারি বাসের এই বিপর্যয় গোটা প্রশাসনকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। মৃত ও আহত সমস্ত যাত্রীই উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগমের (এনবিএসটিসি) বাসে সওয়ার ছিলেন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো বড় দুর্ঘটনার পরই তদন্তের আশ্বাস দিয়ে সাময়িকভাবে জনবিক্ষোভ শান্ত করার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু এই ঘটনার জল অনেক দূর গড়িয়েছে।
দুর্ঘটনার ঠিক পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত এনবিএসটিসি কর্মকর্তারা বাসের চালককে যেভাবে 'ক্লিন চিট' বা নির্দোষ বলে দিয়েছেন, তা নিয়ে তীব্র সন্দেহ দানা বেঁধেছে। কারণ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত যাত্রীদের সিংহভাগই চালকের চরম গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীদের একাংশের দাবি, চালক সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন না। আবার অনেকের মতে, বাসের গতিবেগ ছিল মাত্রাতিরিক্ত। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যাত্রীরা জানিয়েছেন, তাঁরা বারবার চালককে বাসের গতি কমাতে অনুরোধ করেছিলেন, এমনকি বাস থামিয়ে তাঁকে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু চালক কারও কথায় কান দেননি। যদিও পুলিশ গ্রেফতার করার পর চালক নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বাসে যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল বলে জানিয়েছেন। বাসের কন্ডাক্টরের দাবি, আচমকা টায়ার ফেটে যাওয়ার কারণেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল।
যদি চালক ও কন্ডাক্টরের এই যান্ত্রিক ত্রুটির দাবিকে সত্যি বলেও ধরে নেওয়া হয়, তাহলেও এনবিএসটিসি কর্তৃপক্ষ নিজেদের দায় এড়াতে পারে না। জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি মাত্র দুই বছরের পুরনো ছিল। এত নতুন একটি বাসের রক্ষণাবেক্ষণ এবং ফিটনেস নিয়ে কীভাবে এই ধরনের খামতি থেকে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
এদিকে, এই ঘটনার পর পরিবহন প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মণ ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে বাস চালানোর আগে সমস্ত চালকের শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও, তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি