
আরামবাগ, ২৩ জুন (হি.স.) : ভারত কেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করল শ্রী রামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যা মহাপীঠ (কামারপুকুর কলেজ)। এদিন কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশেষ স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যাপক, অধ্যাপিকা ও শিক্ষাকর্মীরা। ভারত কেশরীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাল্যদান করে এ দিন তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
স্মরণসভায় বক্তারা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বহুমুখী অবদান, তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা এবং জাতীয় চেতনা গঠনে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। আলোচনায় উঠে আসে, মাত্র তেত্রিশ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখিয়েছিলেন। পাশাপাশি স্বাধীনোত্তর ভারতের রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে তাঁর ভূমিকা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবসও যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পশ্চিমবঙ্গের গঠন ও বাঙালির স্বতন্ত্র পরিচয় রক্ষার ক্ষেত্রে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর দূরদর্শী সিদ্ধান্ত এবং দৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থানের ফলেই বাংলা বিভক্তির কঠিন সময়ে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল।
কামারপুকুর কলেজের অধ্যাপক তন্ময় পন্ডিত জানান, বর্তমান প্রজন্মের কাছে ড. মুখোপাধ্যায়ের জীবনাদর্শ, দেশপ্রেম, শিক্ষাচিন্তা এবং আত্মত্যাগের ইতিহাস আরও বেশি করে তুলে ধরা প্রয়োজন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নয়, একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ এবং জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবেও তাঁকে জানার ও বোঝার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর কর্মজীবন তরুণ সমাজকে দেশ ও সমাজ গঠনের কাজে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
শ্রদ্ধা, স্মরণ ও আলোচনা—এই তিনের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এদিনের অনুষ্ঠান এক অর্থে নতুন প্রজন্মের সামনে ভারত কেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ ও অবদানকে পুনরায় তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সকলেই তাঁর আদর্শকে ধারণ করে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার গ্রহণ করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA