শিলিগুড়ি পুরবোর্ড ভঙ্গ, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন অভিজ্ঞ আইএএস অফিসার আর বিমলা
শিলিগুড়ি, ২৩ জুন (হি. স.) : রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শিলিগুড়ি পুরনিগমে প্রশাসনিক শাসন জারি হলো। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন প্রবীণ আইএএস অফিসার আর বিমলা। মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ তিনি পুরনিগমে পৌঁছালে কমিশনার অশ্বিনীকুমার
আইএএস অফিসার আর বিমলাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে


শিলিগুড়ি, ২৩ জুন (হি. স.) : রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শিলিগুড়ি পুরনিগমে প্রশাসনিক শাসন জারি হলো। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন প্রবীণ আইএএস অফিসার আর বিমলা। মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ তিনি পুরনিগমে পৌঁছালে কমিশনার অশ্বিনীকুমার রায়–সহ অন্যান্য আধিকারিক ও কর্মীরা ফুল দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। পরবর্তীতে বিজেপির কাউন্সিলর অমিত জৈন–সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরাও নতুন প্রশাসককে অভিনন্দন জানান। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই পুর আধিকারিকদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন আর বিমলা। বর্ষার মরশুমের কথা মাথায় রেখে শহরের জলযন্ত্রণা ও নিকাশি সমস্যার সমাধানে সাফাইয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পানীয় জল সরবরাহ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা সচল রাখাকেও নিজের অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন নতুন প্রশাসক। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এবং সবার সহযোগিতা নিয়েই শহরের উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

প্রশাসনিক স্তরে আর বিমলা অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ অফিসার হিসেবে পরিচিত। এর আগে তিনি শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (এসজেডিএ) সিইও হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া মালদা, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক হিসেবেও সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই শিলিগুড়ি শহর এবং তার ভৌগোলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা আগামীদিনে পুরনিগমের কাজ পরিচালনায় বড় সুবিধা দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

প্রসঙ্গগত, শুক্রবার শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব হঠাতই নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেন। তাঁর এই পদত্যাগের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। দলের পক্ষ থেকে ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকারকে মেয়র এবং সঞ্জয় পাঠককে ডেপুটি মেয়র করে একটি নতুন পুরবোর্ড গঠনের তৎপরতা শুরু হয়েছিল। কিন্তু দলের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে চারজন তৃণমূল কাউন্সিলর একযোগে পদত্যাগ করেন, যার ফলে সমীকরণ জটিল হয়ে ওঠে। এই অচলাবস্থার মধ্যেও তৃণমূল কংগ্রেস পুরবোর্ড টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যায় এবং সোমবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৪ জন কাউন্সিলর চিঠি দিয়ে বোর্ড গঠনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু সেই রাজনৈতিক তৎপরতায় জল ঢেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের পুরনগর উন্নয়ন দপ্তর পুরনিগমে প্রশাসক নিয়োগের চূড়ান্ত নির্দেশ জারি করে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গেই শিলিগুড়ি পুরনিগমে নির্বাচিত বোর্ডের অবসান ঘটল এবং আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীনে নতুন কর্মপরিকল্পনা শুরু হলো।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande