বিধাননগর পুলিশ তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাঁচ বছরের লেনদেনের তথ্য চাইল
কলকাতা, ২৩ জুন (হি. স.) : তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝেই বিধাননগর পুলিশ সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাঙ্কের কাছে গত পাঁচ বছরের সমস্ত লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ চেয়েছে। এর পাশাপাশি অ্যাকাউন্টগুলি খোলার তারিখ, অ্যাকাউন্ট খ
বিধাননগর পুলিশ তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাঁচ বছরের লেনদেনের তথ্য চাইল


কলকাতা, ২৩ জুন (হি. স.) : তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝেই বিধাননগর পুলিশ সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাঙ্কের কাছে গত পাঁচ বছরের সমস্ত লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ চেয়েছে। এর পাশাপাশি অ্যাকাউন্টগুলি খোলার তারিখ, অ্যাকাউন্ট খোলার সময় জমা দেওয়া নথিপত্র এবং সেই সময় স্বাক্ষরকারী ব্যক্তিদের তথ্যও সরবরাহ করতে বলেছে পুলিশ।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে ওই বিধায়ক দাবি করেছিলেন যে, ওই দিনই দলের অ্যাকাউন্টগুলিতে অবৈধভাবে উপার্জিত টাকা জমা করা হয়েছে। তিনি পুলিশের কাছে তিনটি অ্যাকাউন্টের লেনদেন অবিলম্বে বন্ধ করার এবং পুরো বিষয়টির তদন্ত করার দাবি জানিয়েছিলেন।

অভিযোগ পাওয়ার ঠিক পরের দিনই বিধাননগর পুলিশ শরৎ বোস রোডের একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের ওই তিনটি অ্যাকাউন্টের লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশ দেয়। পুলিশ সূত্রের খবর, এই তিনটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা জমা রয়েছে।

অভিযোগকারী বিধায়ক তাঁর অভিযোগে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরগুলির উল্লেখ করলেও, অ্যাকাউন্টগুলি কার নামে রয়েছে তা জানাননি। তবে নির্বাচন কমিশনে তৃণমূল কংগ্রেসের জমা দেওয়া নথিপত্র থেকে জানা গেছে যে, অভিযোগে উল্লিখিত একটি অ্যাকাউন্ট সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নামে রয়েছে। অন্য দুটি অ্যাকাউন্ট দলের ত্রিপুরা ও গোয়া শাখার নামে নথিভুক্ত আছে।

এই বিতর্কের আগে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস শরৎ বোস রোডের ওই একই বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখায় চিঠি লিখে দলের সমস্ত অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ১২ জুনের ওই চিঠিতে অরূপ বিশ্বাস নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দাবি করেছিলেন।

যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা-পন্থী শিবিরের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ দাবি করেছিলেন যে, অরূপ বিশ্বাস এখন আর দলের কোষাধ্যক্ষ নন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ৫ জুন দলের কার্যসমিতির বৈঠকে শুভাশিস চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, কোষাধ্যক্ষ বদলের পর ব্যাঙ্কে অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী (অথরাইজড সিগনেটরি) পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত ছিল, তা দল বা নতুন কোষাধ্যক্ষ—কারও পক্ষ থেকেই করা হয়নি।

তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত এই বিতর্ক এখন কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত পৌঁছেছে। মমতা-পন্থী তৃণমূল শিবির ফ্রিজ বা ব্লক হওয়া অ্যাকাউন্টগুলি পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছে। অন্যদিকে, অরূপ বিশ্বাস ইতিমধ্যেই দলের বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে এক দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যেখানে পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande