
হাইলাকান্দি (অসম), ২৩ জুন (হি.স.) : হাইলাকান্দির শ্রীকিষাণ সারদা কলেজের প্রেক্ষাগৃহে আজ মঙ্গলবার জেলা স্তরের ‘তেজস’ (ট্ৰেইনিং ফর এন্টারপ্রেনেউরিয়াল গ্রোথ অ্যান্ড স্টার্টআপ অ্যাডন্সমেন্ট) অর্থাৎ উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং স্টার্টআপ অগ্রগতির জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হাইলাকান্দি জেলা প্রশাসন, জেলা শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্র (ডিআইসিসি) এবং শ্রীকিষাণ সারদা কলেজের সহযোগিতায় স্টার্টআপ ইন্ডিয়া এবং আসাম স্টার্টআপ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
এই কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী, শিক্ষার্থী, হবু উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা এবং শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ প্রায় ১৬০ জন অংশগ্রহণ করেন। জেলার যুবসমাজের মধ্যে উদ্যোগে স্থাপনের মনোভাব, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতির প্রচার করাই ছিল এই ইভেন্টের মূল উদ্দেশ্য।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন হাইলাকান্দির সহকারী কমিশনার গৌরব দত্ত, শ্রীকিষাণ সারদা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. সুকন্যা চৌধুরী, হাইলাকান্দি ডিআইসিসি-র সহকারী ব্যবস্থাপক ফরিদা ইয়াসমিন, আসাম ইনোভেশন অ্যান্ড স্টার্টআপ ফাউন্ডেশন (এআইএসএফ)-এর সিনিয়র ম্যানেজার দেবাশিস শর্মা এবং এআইএসএফ-এর পরামর্শদাতা কৌশিক খাণ্ডিকর।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উদ্যোক্তা সংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থী ও হবু উদ্যোক্তাদের ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’ এবং ‘আসাম স্টার্টআপ’ উদ্যোগের অধীনে উপলব্ধ বিভিন্ন সহায়তা ব্যবস্থার সুযোগ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন।
কর্মশালায় বেশ কয়েকটি তথ্যপূর্ণ আলোচনাচক্র অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ছিল উদ্যোক্তা উন্নয়নে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা, অসমের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এবং আসাম স্টার্টআপ ও ইনকিউবেশন পলিসির একটি রূপরেখা, স্টার্টআপ ইন্ডিয়ার সুবিধা ও তেজস উদ্যোগ, উদ্যোক্তা তৈরিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, স্থানীয় এন্টারপ্রাইজ বা উদ্যোগ গড়ে তোলা এবং টেকসই ব্যবসায়িক বৃদ্ধির জন্য জেলার নিজস্ব সম্পদকে কাজে লাগানো।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল বরাক উপত্যকার সফল স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় পর্ব। ‘গ্র্যাজুয়েট ফার্মার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা বাপ্পন দাস তাঁর উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার যাত্রা, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং সাফল্যের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যা অংশগ্রহণকারীদের উদ্ভাবনী ব্যবসার সুযোগ অন্বেষণ করতে অনুপ্রাণিত করে। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং মূল্যবান পরামর্শ প্রদান করেন।
পিএমইজিপি, পিএমএফএমই, সিএমএএএ এবং অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপ বা প্রধান সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তারাও এই কর্মশালায় অংশ নেন। তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি হবু স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে জনসংযোগ গড়ে তোলেন।
হাইলাকান্দিতে একটি প্রাণবন্ত উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেম বা পরিবেশ গড়ে তুলতে এবং যুবসমাজকে চাকরিপ্রার্থীর পরিবর্তে চাকরিদাতা হিসেবে গড়ে তুলতে সমস্ত অংশীজনদের অঙ্গীকার করার মধ্য দিয়ে এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে কর্মশালাটি সমাপ্ত হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস