
লখনউ, ২৭ জুন (হি.স.) : 'ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন'-এর পক্ষে সওয়াল করছে বিজেপি, অথচ উত্তর প্রদেশে সময়মতো গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনই করাতে পারছে না রাজ্য সরকার। শনিবার আজমগড়ে এক বিবাহ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানালেন সমাজবাদী পার্টির সভাপতি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। তাঁর দাবি, পঞ্চায়েত নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় রাজ্যের হাজার হাজার গ্রামপ্রধানকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। একইসঙ্গে মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, দুর্নীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবনতি, সংরক্ষণ প্রশ্ন থেকে শুরু করে অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ— একাধিক ইস্যুতে বিজেপিকে নিশানা করেন তিনি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অখিলেশ বলেন, একদিকে রাজ্য সরকার নভেম্বরেই বিধানসভা নির্বাচন হতে পারে বলে নানা প্রচার চালাচ্ছে, অন্যদিকে এখনও পর্যন্ত গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনই আয়োজন করতে পারেনি। তাঁর কটাক্ষ, যাঁরা 'ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন'-এর কথা বলেন, তাঁরাই একটি পঞ্চায়েত নির্বাচন করাতে ব্যর্থ।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন না হওয়ায় বর্তমান গ্রামপ্রধানদের দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত খরচও বেড়ে চলেছে। সরকার সেই আর্থিক বোঝার কথা একবারও ভাবছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
লখনউয়ের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও এদিন রাজনৈতিক আক্রমণের অন্যতম বিষয় হয়ে ওঠে। অখিলেশের অভিযোগ, ওই দুর্ঘটনায় বহু পরিবারের উপার্জনক্ষম সন্তান ও সদস্যের মৃত্যু হলেও মুখ্যমন্ত্রীর আচরণ সংবেদনশীল ছিল না। তাঁর কথায়, সংবাদমাধ্যমের সামনেই যদি মুখ্যমন্ত্রীর ব্যবহার এমন হয়, তাহলে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কেমন আচরণ করা হয়েছে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।
বিজেপি সরকারের সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে সমাজবাদী পার্টির সভাপতি বলেন, উত্তর প্রদেশের মানুষ এবার পরিবর্তন চাইছেন। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং দুর্নীতি আজ চরমে পৌঁছেছে। থানায়, তহশিলে, সরকারি অফিসে— সর্বত্র সাধারণ মানুষকে দুর্নীতির শিকার হতে হচ্ছে। সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাও ভেঙে পড়েছে। বহু হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ নেই, চিকিৎসার মানও প্রশ্নের মুখে।
সংরক্ষণ প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার পিডিএ— অর্থাৎ পিছিয়ে পড়া শ্রেণি, দলিত ও সংখ্যালঘুদের সংরক্ষণের অধিকার খর্ব করেছে। বিজেপিকে তাদের দশ বছরের শাসনের পূর্ণ হিসাব জনগণের সামনে দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে অখিলেশ বলেন, উত্তরপ্রদেশের মানুষ সমাজবাদী পার্টির সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুত। পিডিএ-র নেতৃত্বে সামাজিক ন্যায়বিচারের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। রাজ্যের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সম্প্রীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন প্রশাসন গড়ে তোলা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এক প্রশ্নের উত্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে আরও তীব্র সুরে আক্রমণ শানিয়ে অখিলেশ বলেন, বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানো এখন গণতন্ত্র রক্ষার জন্যও জরুরি। তাঁর দাবি, বিজেপি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না। উত্তর প্রদেশে তারা আবার ক্ষমতায় ফিরলে ভবিষ্যতে মানুষের ভোটাধিকারই বিপন্ন হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন এবং উত্তর প্রদেশের উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, ওই নির্বাচনগুলিতে গণতন্ত্রের হত্যা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণের সময় যা ঘটেছে, তা গোটা দেশ দেখেছে।
অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়েও সরব হন সমাজবাদী পার্টির প্রধান। তিনি বলেন, অযোধ্যা শুধু উত্তর প্রদেশ নয়, সারা বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে গভীর আস্থার কেন্দ্র। সেই পবিত্র স্থানকে ঘিরে যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং উদ্বেগজনক। সরকারকে শেষ পর্যন্ত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করতে হয়েছে। তদন্তে একাধিক গ্রেফতারিও হয়েছে। এমনকি গোবরের স্তূপ ও ঘুঁটে বা কণ্ডের মধ্য থেকেও প্রণামির টাকা উদ্ধারের ঘটনা সামনে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অখিলেশের অভিযোগ, এই ঘটনার মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, মানুষের আস্থার সঙ্গে যাঁরা ছিনিমিনি খেলেছেন, তাঁদের ভগবান শ্রীরামও ক্ষমা করবেন না।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য