মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বৈঠকে সরকারি পদে না থাকা দুই ব্যক্তির উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক, গোপনীয়তার শপথ ভঙ্গের অভিযোগ ডিএমকে সাংসদের
চেন্নাই, ২৭ জুন (হি.স.) : তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন ডিএমকে-র রাজ্যসভার সাংসদ ও প্রবীণ আইনজীবী পি. উইলসন। মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের সরকারি বৈঠকে সরকারি পদে না থাকা দুই ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেছেন, এতে
মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বৈঠকে সরকারি পদে না থাকা দুই ব্যক্তির উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক, গোপনীয়তার শপথ ভঙ্গের অভিযোগ ডিএমকে সাংসদের


চেন্নাই, ২৭ জুন (হি.স.) : তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন ডিএমকে-র রাজ্যসভার সাংসদ ও প্রবীণ আইনজীবী পি. উইলসন। মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের সরকারি বৈঠকে সরকারি পদে না থাকা দুই ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেছেন, এতে শুধু প্রশাসনিক রীতিনীতিই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর গোপনীয়তার শপথ এবং সাংবিধানিক বিধিব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যাও দাবি করেছেন তিনি।

শনিবার সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ প্রকাশিত এক বিস্তারিত বিবৃতিতে উইলসনের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক, বিভিন্ন দফতরের পর্যালোচনা সভা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বৈঠকে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জন আরোগ্য স্বামী এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী বিষ্ণু রেড্ডি। অথচ তাঁরা সরকারি কাঠামোয় কোনও পদে রয়েছেন বা কী ক্ষমতাবলে এসব বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি।

ডিএমকে সাংসদের অভিযোগ, অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা জন আরোগ্য স্বামী ও বিষ্ণু রেড্ডিকে মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দেখা হলেও তাঁদের সরকারি পরিচয় স্পষ্ট নয়। এমনকি সচিবালয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের পাশেই তাঁদের জন্য পৃথক অফিসকক্ষ বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

উইলসনের প্রশ্ন, যদি তাঁরা সরকারি কর্মচারী বা নিয়মমাফিক নিযুক্ত আধিকারিক না হন, তাহলে সংবেদনশীল ও গোপন সরকারি নথি নিয়ে আলোচনা হয় এমন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তাঁরা কোন আইনি বা প্রশাসনিক ক্ষমতায় উপস্থিত থাকছেন? তাঁর মতে, এই ধরনের বৈঠকে অননুমোদিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি সরকারি গোপনীয়তা রক্ষার শপথ, সরকারি পরিষেবা বিধি এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

তিনি আরও দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী অবিলম্বে জন আরোগ্য স্বামী ও বিষ্ণু রেড্ডির সরকারি পদমর্যাদা, তাঁদের নিয়োগের ভিত্তি এবং কোন আইনি কাঠামোর আওতায় তাঁরা সরকারি বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন, তা প্রকাশ্যে জানানো হোক। পাশাপাশি, তাঁরা যদি প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তবে সেই ক্ষমতার উৎসও স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।

ডিএমকে সাংসদের অভিযোগ, প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কোনও অননুমোদিত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে। তাই গোটা বিষয়টি জনস্বার্থে প্রকাশ করা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর দফতর বা তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande