
শিমলা, ২৭ জুন (হি.স.) : হিমাচল প্রদেশের উনা জেলার গগরেট এলাকায় ব্যাপক হারে বেআইনি গাছকাটা এবং বনজ সম্পদ পাচারের অভিযোগে কড়া অবস্থান নিল হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্ট। অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তে রাজ্য সরকার ও বন দফতরের কাছে বিস্তারিত জবাব চেয়ে উনার ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার (ডিএফও)-কে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ (ডিএসএলএ)-এর সচিবকে সংশ্লিষ্ট বন পরীক্ষণ চৌকিতে নিয়মিত পরিদর্শন করে স্বাধীন রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি জি.এস. সন্ধাওয়ালিয়া এবং বিচারপতি বিপিন সি. নেগির ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানিতে শনিবার এই নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ৮ মার্চ আদালতের কাছে একটি অভিযোগ পৌঁছয়, যেখানে দাবি করা হয়েছিল, গগরেট এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক গাছ কেটে ট্রাকে করে রাজ্যের বাইরে পাচার করা হচ্ছে। অভিযোগের সঙ্গে জিপিএস-ট্যাগ করা ছবিও জমা দেওয়া হয়। সেখানে ছোট-বড় একাধিক ট্রাকে বনজ সম্পদ পরিবহণের দৃশ্য ধরা পড়ে। অভিযোগকারীর দাবি, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। বরং যাঁরা ভিডিও তুলে বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
রাজ্য সরকারের তরফে আদালতে জানানো হয়, গগরেট বন পরীক্ষণ চৌকি হিমাচল প্রদেশ ও পঞ্জাব সীমান্তে জাতীয় সড়ক-৩-এর উপর অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট, যেখানে বৈধ বনজ পণ্য পরিবহণ নিয়মিত হয়। সরকারের দাবি, অভিযোগে থাকা ছবিগুলি ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ২ মার্চ ভোর ৫টা ১৮ মিনিট থেকে ৬টা ৪০ মিনিটের মধ্যে তোলা। ওই ট্রাকগুলিতে ইউক্যালিপটাস, পপলার, বাঁশ, জাপানি তুঁত এবং লাইসিনিয়া প্রজাতির কাঠ বহন করা হচ্ছিল, যেগুলির পরিবহণ আইনসম্মত এবং সেগুলি পঞ্জাবের হোশিয়ারপুর কাঠ বাজারে পাঠানো হচ্ছিল। মোট ৬৯টি গাড়ির ট্রানজিট পারমিট পরীক্ষা করে বৈধ নথি পাওয়ার পর সেগুলিকে ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেছে সরকার।
তবে আদালতে পেশ হওয়া নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মোট ১৪৯টি গাড়ির বিরুদ্ধে বেআইনি বনজ সম্পদ পরিবহণের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে শুধু অম্ব রেঞ্জেই ১০২টি গাড়ি অনুমোদন ছাড়া বনজ সম্পদ বহন করছিল বলে অভিযোগ। দেহরা বন বিভাগের কর্মীরা তাঁদের এলাকায় এমন ১৫টি গাড়ি আটকও করেছেন। সরকার আরও জানিয়েছে, অভিযোগকারী রোহিত কাটওয়ালের সঙ্গে তদন্তে সহযোগিতার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের করা হয়নি।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য