
পাটনা, ৩ জুন (হি.স.): বিহারের পাটনার মুসাল্লাপুর এলাকায় খান স্যারের কোচিং সেন্টারের সামনে চলল গুলি। মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা গুলি ছোড়ে বলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে। গুলিতে কেউ হতাহত না হলেও, কোচিং সেন্টারের এক রক্ষীকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন খান স্যার। ওই রক্ষীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। পুলিশের কাছে খান স্যারের দাবি, তিনি কম পারিশ্রমিক নিয়ে পড়ুয়াদের প্রশিক্ষণ দেন। তা কোচিং সেন্টার মাফিয়াদের গাত্রদাহর কারণ।
এসপি শহর দীক্ষা জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িতরা রাস্তার ওপারে অবস্থিত কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে হচ্ছে। বর্তমানে সবকিছু যাচাই করা হচ্ছে; অভিযোগ নথিভুক্ত করা হচ্ছে এবং পরবর্তী কার্যক্রম চলছে। সমস্ত ভিডিও ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সবকিছু যাচাই করা হচ্ছে। আমরা খবর পেয়েছি, একজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে; এখনও পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে খান স্যারের কোচিং ইনস্টিটিউটের বাইরে গুলি চলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বুধবার সকালে বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীরা ইনস্টিটিউটটির বাইরে জড়ো হন। তাঁরা প্রতিবাদ দেখান, তাই কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে বিশাল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী। স্থানীয় সূত্রের খবর, দু'টি কোচিং ইনস্টিটিউটের মধ্যে বিবাদ থেকে পাথর ছোড়াছুড়ি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, খান স্যারের ইনস্টিটিউটে হামলা চালানো হয়, এতে একজন নিরাপত্তাকর্মী গুরুতর আহত হন। পুলিশ একটি এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। একজন শিক্ষার্থী জানায়, ঘটনাটি গতকাল রাত প্রায় ১০:১৫-১০:২০ মিনিটের মধ্যে ঘটে। আমরা রাত প্রায় ১০টা নাগাদ এখান থেকে বেরিয়েছিলাম এবং সাধারণত ৫-১০ মিনিটের মধ্যে লাইব্রেরিতে যাই। বেরিয়ে আমি আমার ঘরে ফিরে যাই এবং তারপর ছাদে যাই, যেখানে আমি আমার বাবার সঙ্গে কথা বলছিলাম। রাত প্রায় ১০:২০ মিনিটের দিকে, আমি একটি বিকট শব্দ শুনি যা গুলির শব্দের মতো মনে হয়েছিল, যদিও আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে সেটি কিসের শব্দ ছিল। অপর এক শিক্ষার্থী বলে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন কখনোই আক্রান্ত না হয়।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন খান স্যার। বুধবার সকালে তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত পুলিশের ব্যবস্থায় আমরা সন্তুষ্ট। আমাদের নিরাপত্তার জন্য সারারাত এখানে ৫০-৬০ জন পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আমাদের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য আমি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ