সামাজিক ভারসাম্যে জোর, ডি. কে. শিবকুমারের মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব পেল কর্নাটকের প্রায় সব প্রভাবশালী সম্প্রদায়
বেঙ্গালুরু, ৩ জুন (হি.স.) : কর্নাটকের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমারের নেতৃত্বে গঠিত প্রথম মন্ত্রিসভায় সামাজিক, আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নিয়েছে কংগ্রেস। রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলটের কাছে পাঠানো মন্ত্রীদের প্রস্তাবিত তালিকা
সামাজিক ভারসাম্যে জোর, ডি. কে. শিবকুমারের মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব পেল কর্নাটকের প্রায় সব প্রভাবশালী সম্প্রদায়


বেঙ্গালুরু, ৩ জুন (হি.স.) : কর্নাটকের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমারের নেতৃত্বে গঠিত প্রথম মন্ত্রিসভায় সামাজিক, আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নিয়েছে কংগ্রেস। রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলটের কাছে পাঠানো মন্ত্রীদের প্রস্তাবিত তালিকা থেকে স্পষ্ট, রাজ্যের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রদায়কে প্রতিনিধিত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনের বার্তা দিতে চেয়েছে দল।

মন্ত্রিসভা গঠনে ভোক্কালিগা, লিঙ্গায়েত, দলিত, কুরুবা, সংখ্যালঘু, রেড্ডি এবং তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টন নয়, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও নির্বাচনী সমীকরণ মাথায় রেখে তৈরি করা একটি সুপরিকল্পিত সামাজিক কাঠামো।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ডি. কে. শিবকুমারের শপথের মাধ্যমে রাজ্যের প্রভাবশালী ভোক্কালিগা সম্প্রদায় সর্বোচ্চ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব পেয়েছে। অন্যদিকে, প্রবীণ দলিত নেতা জি. পরমেশ্বরকে উপমুখ্যমন্ত্রী করায় দলিত সমাজের অংশগ্রহণও আরও শক্তিশালী হয়েছে।

লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এম. বি. পাটিল, শরণ প্রকাশ পাটিল এবং ঈশ্বর খাণ্ড্রেকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়েছে। কর্নাটকের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দলিত সম্প্রদায় থেকেও তিনজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। উপমুখ্যমন্ত্রী জি. পরমেশ্বর ছাড়াও কে. এইচ. মুনিয়াপ্পা এবং প্রিয়াঙ্ক খাড়গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।

সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন ইউ. টি. খাদার। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন কে. জে. জর্জ। রেড্ডি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন রামলিঙ্গা রেড্ডি এবং তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন সতীশ জারকিহোলি।

কুরুবা সম্প্রদায় থেকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ইয়তীন্দ্র সিদ্দারামাইয়া এবং ব্যারাথি সুরেশকে। ভোক্কালিগা সম্প্রদায়ের আরেক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন কৃষ্ণ বাইরে গৌড়া। ফলে মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমারকে নিয়ে ভোক্কালিগা সম্প্রদায়ের দু'জন গুরুত্বপূর্ণ মুখ সরকারে স্থান পেলেন।

সামাজিক সমীকরণের নিরিখে দেখা যাচ্ছে, লিঙ্গায়েত সম্প্রদায় থেকে তিনজন, দলিত সম্প্রদায় থেকে তিনজন (উপমুখ্যমন্ত্রী-সহ), ভোক্কালিগা থেকে দু'জন, কুরুবা থেকে দু'জন, মুসলিম সংখ্যালঘু, খ্রিস্টান, রেড্ডি এবং তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায় থেকে একজন করে প্রতিনিধি মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডি. কে. শিবকুমারের প্রথম মন্ত্রিসভা সামাজিক বৈচিত্র্য, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যের প্রতীক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিভিন্ন প্রভাবশালী সম্প্রদায়কে প্রতিনিধিত্ব দিয়ে কংগ্রেস স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তাদের সরকার সব শ্রেণিকে সঙ্গে নিয়েই চলবে। ভবিষ্যতে এই সামাজিক ভারসাম্য কর্নাটকের রাজনীতি ও কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande